জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১০ এপ্রিল: ‘ বীরভুমে লুটেপুটে খেয়েছে। এবার পান্ডবেশ্বরের দিকে নজর দিয়েছে। অনুব্রত মন্ডল সভা করে পান্ডবেশ্বরের মাটি কলুষিত করেছে। তাই শুদ্ধিকরন করতে ১১ এপ্রিল বিধানসভার ৪৯ শক্তিকেন্দ্রে একইসময় একযোগে মিছিল হবে। ১৯ এপ্রিল অনুব্রত মণ্ডল যেখানে সভা করেছিলেন ওই একই মাঠে মহিলামোর্চা সভা করবে। ২০ হাজার মহিলা একত্রিত হবে। অনুব্রত মন্ডলকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে।’ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবে তোপ দাগলেন পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী।
প্রসঙ্গত, দুদিন আগে পান্ডবেশ্বরের হরিপুরে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রচারসভা ছিল। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন অনুব্রত মন্ডল। ওইসভা পান্ডবেশ্বরের মাটিকে কলুষিত করেছে বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। অনুব্রত মন্ডলকে কড়া ভাষায় আক্রমন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তিনি বলেন, “অনুব্রত মন্ডলের আমার ওপর রাগ আছে। পাঁচ বছর আগে টাকা নিয়ে পান্ডবেশ্বরের বিভিন্ন কোলিয়ারি প্যাচে বীরভুমের লোক ঢোকাতেন। আর বঞ্চিত করতেন স্থানীয়দের। সংখ্যাটা প্রায় ৪ হাজার। শুধু তাই নয় শ্রমিকদের ৫-৬ হাজার টাকা মাইনেতে ১৪ ঘন্টা করে কাজ করানো হত। বিধায়ক হওয়ার পর সেটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।” তিনি বলেন, “উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে নতুন বেতন চুক্তি করেছিলাম। এখন ২০-২৬ হাজার টাকা করে মাইনে পায় শ্রমিকরা। স্থানীয়দের কাজে অগ্রধিকার দিয়েছিলাম। বীরভুমে লুটেপুটে খেয়ে এখন আবার পান্ডবেশ্বরের দিকে নজর দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “অনুব্রত মন্ডল সভা করে পান্ডবেশ্বরের মাটিকে কলুষিত করেছে। তাই ১১ এপ্রিল বিকাল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে ৪৯ টা শক্তিকেন্দ্রে একই সময় একযোগে মিছিল করবে বিজেপি। এছাড়াও আগামী ১৯ এপ্রিল হরিপুরের ওই মাঠে জনসভা করবে মহিলারা। ২০ হাজারেরও বেশী মহিলা একত্রিত হয়ে জবাব দেব। অনুব্রত মন্ডলকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে।”
এদিন পান্ডবেশ্বরের পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ অঞ্জনা গরাই ও তাঁর স্বামী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সে প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “জোর কা ঝটকা ধিরেসে লাগে।” তিনি বলেন, “এটা শুরু হয়েছে। এরকম অনেক আছে, নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসবে। জেলা পরিষদেও এরকম আসবে।”
এবিষয়ে জবাবে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “হরিপুরের সভায় মাঠে ভিড় দেখে ভয় পেয়েছে। তাই এসব বলছেন। কর্মীরা আমাদের পাশে আছে। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।”

