আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৬ আগস্ট: মাত্র তিন দিনের ব্যাবধানে আরও একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করলো বিজেপি। বিষ্ণুপুর ব্লকের বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতে গতকাল প্রধান নির্বাচনের ভোটাভুটিতে বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করে।ফলাফল ঘোষণার পরেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত ভবন ও চেয়ার শুব্ধ করে বসানো হয় নবনির্বাচিত প্রধানকে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বাঁকুড়া ১নং ব্লকের জগদল্লা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। প্রধান নির্বাচনের ভোটে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর পঞ্চায়েত ভবন গঙ্গাজল ও গোবরজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করা হয়।
গত ২০২৩ নির্বাচনে বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে তৃণমূল ও ৪টিতে বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল বোর্ড গঠন করেছিল। রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রধানের বিরুদ্ধে গাছ কেটে পাচার থেকে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে গত ৫ অগাস্ট প্রধান পদত্যাগ করেন। গতকাল প্রধান নির্বাচনের ভোটাভুটি হয়। তৃণমূলের ২জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে জয়ী হয় বিজেপি প্রার্থী। এই ভোটাভুটিতে তৃণমূলের ১২ জন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানের বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করা হয়েছে। এবার অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত জনগণের পঞ্চায়েত গড়ে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, জগদল্লা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪টি আসনের মধ্যে গত ২০২৩ নির্বাচনে তৃণমূল ৭টি, বিজেপি ৬টি ও নির্দল ১টি আসনে জয়ী হয়েছিল।পরবর্তীতে ১জন বিজেপি সদস্য তৃণমূলে যোগ দেয়। এতে তৃণমূল বোর্ড গঠন করে। রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রধান পদত্যাগ করেন। গত শনিবার ভোটাভুটিতে তৃণমূল সদস্যদের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির। বিজেপির বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার নেতৃত্বে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত ভবন শুদ্ধ করা হয়। এনিয়ে জেলা জুরে বিতর্ক শুরু হয়।
যদিও এই ঘটনা বাঁকুড়ায় নতুন কিছু নয়। রাজ্যে সরকার বদলের পর একের পর এক পঞ্চায়েত ও পৌরসভার শুদ্ধিকরণ দেখেছে জেলাবাসী। সোনামুখীর রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং বাঁকুড়া ২ ব্লকের বিকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও পরে প্রধান পদত্যাগ করেন। এই দুই ক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে বিজেপির প্রধান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করা হয় পঞ্চায়েত ভবন।

