Sukanta, BJP, রাজ্যের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত! কলকাতা পুরো ভোটের দায়িত্ব সুকান্তর কাঁধে, হাওড়ায় রাহুল

আমাদের ভারত, ২৫ আগস্ট: পুরো ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার বিধাননগরে বিজেপি রাজ্য দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক দিয়ে শুরু করলো নির্বাচনের প্রস্তুতি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। সেখানে সুকান্ত মজুমদারকে কলকাতা পুরো ভোটের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাওড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাহুল সিনহাকে।

দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে রাজ্যের এক মন্ত্রী এবং এক বিধায়ককে এই ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এর ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল কলকাতার পুরো ভোটকে বিজেপি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। কলকাতার পুরো ভোট পরিচালনা কমিটির ইনচার্জ হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। কো- ইনচার্জ করা হয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ- সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় কে।
মাণিকতলার বিধায়ক কথা রাজ্যে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কমিটির আহবায়ক। সহ- আহ্বায়ক কাশিপুর- বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।

একই সঙ্গে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও নির্ধারিত হয়েছে মঙ্গলবার। আরো এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাকে ইনচার্জ করা হয়েছে। আহবায়ক করা হয়েছে বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং’কে।

হাওড়ায় পুরো ভোট হয়েছে আট বছর আগে। অন্যদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে গিয়েছে কলকাতা পুরো ভোট। রাজ্যে পালাবদলের পর ইস্তফা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ববি বিদায়ের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল নতুন মেয়র এর নাম চূড়ান্ত করতে না পারায় কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরো কমিশনার স্মিতা পান্ডে প্রশাসক হিসেবে কাজ সামলাচ্ছেন পুরো বোর্ড। মেয়াদ পূর্ণ করলে এ বছর ডিসেম্বর নাগাদ ভোট হত।

বিজেপি সূত্রে খবর, পুজোর পরেই নভেম্বর- ডিসেম্বর নাগাদ ভোট হবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। সেই প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার বিধাননগরে বিজেপি রাজ্য দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসর, রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কোর কমিটির সদস্য সুকান্ত মজুমদার, কলকাতা পুরো এলাকার বিজেপি বিধায়করা। এই বৈঠকেই সুকান্ত মজুমদারকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এই পু্রোভোটে সুকান্ত মজুমদারকে বেছে নেওয়ার পেছনে কি কেবল বিজেপির ওজনদার নেতৃত্বকে বেছে নির্বাচনের গুরুত্ব স্পষ্ট করা, নাকি ফের রাজ্য স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজে সুকান্তর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত?

রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সুকান্ত মজুমদারের সরে যাওয়া ও শমীক ভট্টাচার্যের আগমনের পরেও সুকান্ত মজুমদারকে সম্মানীয় রাজ্য পার্টির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক মহলে রাখা হয়েছিল। রাজ্যের আরো এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কিন্তু এখন আর রাজ্য কোর কমিটিতে নেই। আছেন সুকান্ত মজুমদার। এরপর এবার ছোট লাল বাড়ি দখলের লড়াইয়ে দেখভালের দায়িত্ব সুকান্তর কাঁধে। এর থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল বিজেপির রাজ্য সংগঠনে বালুরঘাটের সাংসদকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়রথ থমকে যায়। বিধানসভা ভোটে সেই পরাজয় কয়েক মাস পরে দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে সভাপতি করা হয় সুকান্তকে। বিজেপির একাধিক রাজ্যস্তরের নেতা মনে করেন সেই সময় সুকান্তর চেয়ে বেশি পরিচিতি সম্পন্ন একাধিক নেতা থাকলেও কেউ এই দায়িত্ব নিতে সাহস দেখায়নি। দল তখন প্রায় ছিন্ন ভিন্ন। জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চলছে। পিঠ বাঁচাতে অনেকে দল বদলে ফেলেছেন। ঐরকম কঠিন সময়ে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। দায়িত্ব প্রাপ্তির কয়েক মাসের মধ্যে হওয়া পুরো নির্বাচনে বিজেপি আরো শোচনীয় পরাজয়ের মুখ দেখেছিল। গোটা রাজ্যে শতাধিক পুরসভার নির্বাচনে বিজেপির ভোট আরো কমেছিল। এক দলীয় কর্মসূচিতে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। সুকান্ত মজুমদারের সভাপতিত্বেই সেই শুন্য থেকে শুরু করার কাজটা শুরু হয়েছিল।

২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির ভোট ১৩% থেকে ২৩ শতাংশে পৌঁছায়। পঞ্চায়েতে তিন স্তর মিলিয়ে প্রায় সাড়ে এগারো হাজার আসনে জয়ী হন তারা, যা ছিল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ- এর সম্মিলিত আসন সংখ্যার দ্বিগুণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির লোকসভা আসন কমে যায় ১৮ থেকে কমে হয় ১২, কিন্তু ভোট প্রাপ্তির হার প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছে যায়, অর্থাৎ ২০২১ সালের ভোট প্রাপ্তির চেয়ে এক শতাংশ বেশি। সেই নির্বাচনের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুকান্তর অন্তর্ভুক্তি ঘটেছিল। তখনই বোঝা গিয়েছিল যে রাজ্য সভাপতি পদ ছাড়তে হবে তাঁকে, কারণ এক ব্যক্তি এক পদ বিজেপির ঘোষিত নীতি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সুকান্তর জায়গায় রাজ্য সভাপতি হন শমীক ভট্টাচার্য। তারপর থেকে গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। বিরোধী পক্ষ থেকে বিজেপি শাসক হয়েছে। দলের সংগঠন এখনো পোক্ত তা বলা যায় না। তাই সেই লক্ষ্যে বিজেপি নেতৃত্ব কলকাতা ও হাওড়ার পুরোভোটে সুকান্ত মজুমদারকে ফিরিয়ে এনে সংগঠনে নব জোয়ার আনার চেষ্টা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *