আমাদের ভারত, ২৪ আগস্ট: গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি ও প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এমব্লেম নিয়ে বিতর্কের পারদ আরও তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যাদবপুরে কিষানজির রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ২৮ আগস্ট অর্থাৎ রাখি বন্ধনের দিন দেশপ্রেম দিবস পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনো সমস্যা নেই। তবে আর্টস হোস্টেলের কিছু ছবি ও ভিডিও তাদের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ছবিতে কী আছে তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। তবে এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বেশ কয়েকজন ছাত্র সিএমও’তে আর্টস হোস্টেলের কিছু ভিডিও পাঠিয়েছেন, তা ভিসিকে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষা করুন, এইসব মেনে নেওয়া হবে না। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন, অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, দেশ সবার উপরে, আর সেই নীতি নিয়ে সরকার চলবে।
তিনি জানান, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে ৪০০০ অনুষ্ঠান হবে। এমনকি সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দেমাতরম গাইতে দেয় না, জাতীয় পতাকা ওড়ে না, এখানে শিক্ষা দপ্তরকে ঢুকতে দেয়নি, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না, কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেককেই দেখেছি সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঁদছেন। তারা শুনে রাখুন, এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দেমাতরম গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপোষ নয়। যারা “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি” স্লোগান তুলছে তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়া দায়িত্ব আমাদের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ইস্যুতে কড়া বার্তা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে।

