আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই:দলত্যাগ করার পরও বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান পদে মুকুল রায়কে বসানো হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা ভাঙা নিয়ে সরব বিজেপি। মঙ্গলবার এর প্রতিবাদে মোট আটটি কমিটি থেকে ইস্তফা দিয়ে দিল পদ্ম শিবিরের বিধায়করা।
৬ জন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ এবং দুজন হাউস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই তালিকায় রয়েছেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা। বিষ্ণু প্রসাদ শাস্ত্রী,মিহির গোস্বামী,আনন্দময় বর্মন,অশোক কীর্তনীয়া,নিখিল দে, দীপক বর্মন সহ মোট আটজন পদত্যাগ করে স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
যদিও বিজেপির এই আট বিধায়ককে তাদের সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান অধ্যক্ষ। কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তারা। তাদের অভিযোগ মুকুল রায়কে পিএসসি চেয়ারম্যান করে হয়েছে যেভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা সেটা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। মুকুল রায় পিএসসি চেয়ারম্যান পদ থেকে না সরলে বিজেপি বিধায়করা নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
আগামী শুক্রবার ৪১ জন চেয়ারম্যানকে বৈঠকে ডেকেছেন অধ্যক্ষ। কিন্তু সেই বৈঠকে বিজেপির তরফে কেউ থাকবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথা ভেঙে পিএসসি চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মুকুল রায়কে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছিল বিজেপি বিধায়করা। তারা জানিয়েছিল সমস্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তারা। তাদের অভিযোগ বিধানসভায় বিরোধী হিসেবে বিজেপির ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। বিধানসভা স্ট্যান্ডিং কমিটি ও হাউস কমিটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই শাসক-বিরোধী টানাপোড়েন চলছে। বিরোধীদের দাবি ছিল ১৫ টি কমিটির চেয়ারম্যান পদ যেখানে দশটির বেশি ছাড়তে রাজি হয়নি শাসক শিবির। কিন্তু সেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে যখন পিএসি চেয়ারম্যান পদে মুকুল রায়কে বসানো হয়। অথচ এই কমিটির চেয়ারম্যান পদের জন্য ৬ জন বিধায়কের নাম পাঠিয়েছিল পদ্ম শিবের। সেখানে মুকুল রায়ের নাম ছিল না। কিন্তু এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন মুকুল রায় যেহেতু বিজেপির বিধায়ক তাই তাকেই চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন তা কার্যকর করা হয়। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবাদ স্বরূপ ইস্তফা দিলেন বিরোধীদলের বিধায়করা। বিজেপির এই মাস্টার স্ট্রোক কিভাবে সামল দেয় শাসক শিবির তার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

