আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ মে:
“আসি যাই, মাইনে পাই,” এই প্রবাদের অবসান করতে পথে নামলেন বিজেপির রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সোমবার প্রথম দিন গান্ধীগিরি কায়দায় রামপুরহাট মহকুমা অফিসে গিয়ে কর্মীদের হাতে পদ্মফুল দিয়ে সতর্ক করা হলো। তাতেও সময় মতো অফিসে হাজিরা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে এসেছেন ধ্রুব সাহা।

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে পরেই ঘোষণা করেছেন ১০টা- ৫টা অফিস করতে হবে। সেই নির্দেশ কতটা মানা হচ্ছে সেটা দেখতে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে দেখেন বহু দফতরে কর্মী এবং অফিসাররা অনুপস্থিত। কেউ কেউ ১০টার অনেক পরে অফিসে ঢুকছেন। যারা দেরিতে ঢুকেছেন তাদের গেটের কাছে দাঁড় করিয়ে একটি করে পদ্মফুল তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দেন। যাদের অফিস ফাঁকা তাদের টেবিলে পদ্মফুল রেখে দিয়ে আসেন।

ধ্রুব বাবু বলেন, “আমরা সরকারি কর্মীদের তাদের সমস্ত প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দেব। সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। তবে সরকারি কর্মচারীদেরও মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। কাউকে অহেতুক ঘোরালে তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কাটমানির অভিযোগ পেলে রেয়াত করা হবে না। আমরা সরকারি কর্মীদের জানিয়েছি ১০.১৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। বিকেল ৫.১৫ মিনিটে অফিস থেকে বের হতে পারবেন। প্রথমদিন যারা আগের সরকারের সময় “আসি যাই মাইনে পাই” গোছের চাকরি করেছেন তাদের সতর্ক করলাম। অবাধ্য হলে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কারণ মানুষ আমাদের জনপ্রতিনিধি করেছেন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্যই। তাই আমরা আগে সরকারি কর্মীদের মধ্যে আসি যায় মাইনে পাই নীতি ত্যাগ করার আহ্বান জানালাম। সেই সঙ্গে ঊর্দ্ধতন আধিকারিককে জানিয়েছি সিসিটিভি সচল রেখে কর্মীদের গতিবিধি নজরে রাখা হোক। আমি পুনরায় পরিদর্শনে এসে দেখে যাবো কতটা স্বাভাবিক হয়েছে উপস্থিতি।”


