আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৪ মে: ফের পিটিয়ে মারা হল এক ব্যবসায়ীকে। মৃত ব্যক্তি বিজেপির সক্রিয় কর্মী বলে জানা গিয়েছে। দিনে দুপুরে তাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যবসায়ীর নাম মনোজ জয়শোয়াল (৪২)। বাড়ি কলকাতা হলেও ব্যবসার কারণে বীরভূমের নলহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগধারীপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে থাকতেন। বাড়িতে একা থাকতেন তিনি। রান্না করার জন্য গোলক চন্দ্র মাল নামে একজন কেয়ারটেকার রয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। তারপর আর ফেরেনি। দুপুরের দিকে নলহাটি–মুরারই রাস্তায় মধুরা গ্রামে যাওয়ার রাস্তায় ক্যানেলের ধারে দুষ্কৃতীরা তাকে পিটিয়ে মারে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এই ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ভয়ে মৃত মনোজের গাড়ির চালক সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চায়নি।

তবে গোলক বলেন, “সকালে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিলেন দুপুরের রান্না করতে হবে না। সেই মতো আমি নিজের জন্য রান্না করেছিলাম। বিকেলের দিকে মৃত্যু সংবাদ আসে।”
একসময় তৃণমূলের সমস্ত অনুষ্ঠানে তাকে অগ্রভাগে দেখা যেত। তৃণমূলের নলহাটি শহর সভাপতি পিন্টু সিংহের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ভোটের কিছু দিন আগে তৃণমূল ছেড়ে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন।
যদিও খুনের সঙ্গে রাজনীতি নেই বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের নলহাটি ১ নম্বর ব্লক সভাপতি অশোক ঘোষ। তিনি বলেন, “উনি এমন কিছু বড় নেতা নন যে তাঁকে খুন করবে তৃণমূল। তাছাড়া তৃণমূল খুনের রাজনীতি করে না। উনার ব্যবসা অনেক রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।”

বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “মনোজ তৃণমূলের সামনের সারির নেতা ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিজেপি প্রার্থী আনন্দ যাদবের হয়ে ভোট করেছিল। সেই আক্রোশেই তাঁকে দিনের বেলা পিটিয়ে খুন করা হল। নলহাটি এলাকায় এই জঘন্য খুনের রাজনীতি পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করছি। সঠিক তদন্ত করা হলে খুনের রহস্য বেরিয়ে আসবে।

