আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৪ মে: আজ শুভ অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনটিতে তারাপীঠে মা তারার কোনও বিশেষ পুজো না হলেও শুভক্ষণের কারণে পূণ্যার্থীদের ভিড় হয় যথেষ্ট। করোনা অতিমারির কারণে এবার পূণ্যার্থী শূন্য তারাপীঠ মন্দির চত্বর। তবে নিরাশ হওয়ার কারণ নেই, মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে মায়ের দর্শন করাচ্ছেন সেবাইতরা। তাতেই সন্তুষ্ট হতে হচ্ছে পূণ্যার্থীদের”।
সব দেবীর ঊর্ধ্বে মা তারা। ফলে সমস্ত দেবীর পুজো হয় মা তারাকে সামনে রেখেই। অক্ষয় তৃতীয়ায় তেমন বিশেষ কোনও পুজো হয় না তারাপীঠে। তবে কিছু কিছু ব্যবসায়ী পুজো দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এই দিনটিতে। বিশেষত স্থানীয়রাই ভিড় জমান বেশি। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে জনশূন্য তারাপীঠ মন্দির। বহিরাগত পূণ্যার্থী তো দূরের কথা স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও তেমন দেখা মেলেনি মন্দিরে। তবে মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে পূণ্যার্থীদের মায়ের দর্শন করাচ্ছেন সেবাইতরা।

তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আজ অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনে প্রতিবছর বহু পূণ্যার্থীর ভিড় হয়। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে এবার পূণ্যার্থীদের দেখা নেই। তাছাড়া অধিকাংশ ট্রেন বন্ধ। বাস চলাচল করলেও তা সংখ্যায় নগণ্য। ফলে ইচ্ছে থাকলেও পূণ্যার্থীরা তারাপীঠে আসতে পারছেন না। পূণ্যার্থীদের দাবি মেনে আমরা নাম গোত্র ধরে পুজো দিচ্ছি। ভিডিও কলের মাধ্যমে মায়ের দর্শন করানো হচ্ছে। পুজোর পুস্প পাঠানো হচ্ছে ডাক যোগে। তবে মায়ের নিত্য পুজোয় কোনও হেরফের হয়নি”।
তবে মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে গেলে পূণ্যার্থী
ছাড়া কাউকে মন্দিরে চত্বরে উথতে দেওয়া হচ্ছে না। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্দির চত্বরে প্রবেশের দুটি নির্দিষ্ট গেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে পূণ্যার্থীদের হাতে। তারপরেই মায়ের গর্ভগৃহে প্রবেশের ছাড়পত্র মিলছে।
রামপুরহাটের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “প্রতিবছর মায়ের পুজো দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। অন্যান্য বছর এইদিনে ভিড় ঠেলে মা তারার গর্ভগৃহে প্রবেশ করে পুজো এবং দর্শন করতে হয়। কিন্তু এবার ভিড় তো দূরের কথা গুটি কয়েক সেবাইত ছাড়া কাউকে দেখছি না। মা তারার কাছে প্রার্থনা করলাম এই অতিমারি থেকে দেশকে রক্ষা করো। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক দেশ”।

