আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ মে:
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এবার ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ এক বিজেপি নেতা ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ তৃণমূলের আমলে তার উপর প্রাণঘাতী আক্রমণের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক থেকে ইডির নজরে থাকা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরও। বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি তার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও।
বিজেপি নেতা তথা ব্যবসায়ী দেবরঞ্জন রায় বীরভূমের মহম্মদবাজারের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী মনিকা রায় বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার নেত্রী। ফলে ২০২১ সালে সপরিবারে বিজেপির হয়ে ভোট করেছিলেন। ওই বছরের ৪ মে গণনা শেষ হতেই বিকেলের দিকে দেবরঞ্জনবাবুর পেট্রোল পাম্পে হামলা করে কিছু দুষ্কৃতী। ভেঙ্গে তছনছ করে দেওয়া হয় পাম্প। কর্মীরা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যান। তাঁর বাড়িতেও বোমা ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার সঙ্গে নাম জড়ায় তৃণমূলের মহম্মদ বাজার ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা, লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা ওরফে রানা এবং ইডির নজরে থাকা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নাজিমুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল। দেবরঞ্জনবাবুর দাবি, ঘটনার সময় তিনি পাম্পে ছিলেন। তাপস সিনহার হুমকি ফোন পেয়ে তিনি স্ত্রী এবং পুত্রের প্রাণ বাঁচাতে পাম্প থেকে বেরিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢোকেন। তারপরেই পাম্পে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। বাড়িতেও বোমা ছোঁড়া হয়। ইট, পাথর ছুঁড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। দুষ্কৃতীরা টুলু মণ্ডলের অফিসে জমায়েত হয়ে হামলা চালিয়েছিল।
দেবরঞ্জন বাবু বলেন, “আমি প্রাণ বাঁচাতে টুলু মণ্ডল এবং তাপস সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা উত্তর দিয়েছিলেন রানাদার (অভিজিৎ সিনহা) নির্দেশ। পুলিশকে ফোন করেছিলাম, পুলিশ উত্তর দিয়েছিল, বাড়িতে বিজেপির পার্টি অফিস খুলবেন? ফলে এরকম তো হবেই।”
দেবরঞ্জন বাবু জানান, ওইদিন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ প্রকৃত তথ্য সম্বলিত অভিযোগপত্র নেয়নি। তারা নিজেদের মনগড়া অভিযোগ লিখতে বাধ্য করে। এমনকি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলের কল রেকর্ডিং, প্রতক্ষদর্শীর বয়ান পুলিশকে দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই ওই ঘটনার নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দেবরঞ্জনবাবু।
এ ব্যাপারে অভিজিৎ সিনহা বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি লাভপুরের বিধায়ক ছিলাম। ফলে মহম্মদবাজারে আমি হস্তক্ষেপ করতে যাব কেন?” যদিও মোবাইল বন্ধ থাকায় তাপস সিনহা কিংবা টুলু মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জেলা পুলিশ সুপার সূর্য প্রসাদ যাদব বলেন, “জেলায় এরকম বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। সবগুলোর এফ আই আর করা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

