সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৪ এপ্রিল: ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ। বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। এই ঘটনায় সরব হয়ে তিনি দাবি করেছেন, “আমাকেই টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে।“
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনা। বাগদার সুন্দরপুরের আরামডাঙ্গা এলাকায় মঙ্গলবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার সকালে সুন্দরপুরের আরামডাঙ্গা এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচিতে বের হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। অভিযোগ, তাঁর কনভয় যখন এগোচ্ছিল, ঠিক সেই সময় পিছন থেকে একটি দ্রুতগামী মোটর বাইক এসে প্রার্থীর কনভয়ে থাকা একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। মোটর চালিত ওই যানের প্রবল অভিঘাতে প্রার্থীর সুরক্ষায় থাকা গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সোচ্চার হয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, হামলাকারী যুবক মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার গায়ে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক সম্বলিত গেঞ্জি ছিল। সোমা ঠাকুরের দাবি, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার এবং প্রাণে মেরে ফেলার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। তিনি সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলেছেন। বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের লড়াই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলে এই লড়াই ‘বৌদি বনাম ননদ’-এর লড়াই হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মাঝেই প্রার্থীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই অভিযোগ নির্বাচনী উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। তবে নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন ঘটনা যে পুলিশের ওপর চাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় থানা। এলাকায় আর যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

