আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২২ ফেব্রুয়ারি: ভোট নয় এ যেন বলিউডের সিনেমা। ভাটপাড়ায় ফের বিজেপি প্রার্থীকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার হল বিজেপি প্রার্থী।
ভাটপাড়া পৌরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত মল্লিককে ফের অপহরণের অভিযোগ উঠলো শাসক দলের বিরুদ্ধে। ভাটপাড়া পৌর সভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত মল্লিক এদিন তার দলীয় পতাকা লাগানোর সময় কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বাইকে চেপে আসে এবং তাকে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এরপর রঞ্জিতবাবুর মোবাইলের টাওয়ার চিহ্নিত করে জগদ্দলের স্থিরপাড়া বুড়িবটতলা বালক সংঘ ক্লাবের কাছে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ভাটপাড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করে অপহৃত বিজেপি নেতা রঞ্জিত মল্লিককে। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাটপাড়া পৌর এলাকায়।

অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুই দুষ্কৃতী সুজিত চৌধুরী ও বিপিন সাউ বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিতকে মারতে মারতে নিয়ে যায় এবং একটি ঘরে তাকে বন্ধ করে রেখে তার ওপর অত্যাচার করা হয়। প্রসঙ্গত, এর আগেও এই বিজেপি প্রার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ভোটে না লড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাটপাড়া পৌর এলাকা। বেশ কিছু দিন ধরেই ভাটপাড়াতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থীরা ভোটে না লড়াই করার ঘোষণা করে তৃণমূলে যোগদান করছেন। আর এই ঘটনার বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বার বার বিজেপি প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগ দান করানোর অভিযোগ আনছিলেন। এদিন সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, “কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৃণমূল কংগ্রেস চলে না। তাই তারা গুন্ডামি করছে। এরপর গণরোষ সৃষ্টি হবে আর আর তাতে তৃণমূলের গুন্ডারা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে ধুয়ে মুছে যাবে।”
এদিন থানা থেকে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী বলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে। তাকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে বলা হচ্ছে আর তিনি তাতে রাজি নন তাই তাকে বারবার অপহরণ করে অত্যাচার করা হচ্ছে। এদিন বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত মল্লিক বলেন, “তৃণমূল আমার ওয়ার্ডে হারবে আর তাই বারবার আমাকে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমাকে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি কোনো চাপে মাথা নত করবো না আমি বিজেপি হিসেবে লড়াই করবো।” এই অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কিত বিজেপি প্রার্থী ও তার গোটা পরিবার। তাদের দাবি উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে।
অপর দিকে এই বিষয়ে বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, “আমি এরকম কোনো ঘটনা জানি না। আমরা অপহরণ কেন করবো। ওই বিজেপি প্রার্থী কে ওই এলাকার বাসিন্দারা কেউ চেনে না। উনি গণতান্ত্রিভাবে লড়াই লড়বেন সেখানে আমরা বাধা দেবো কেনো?

