আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৯ জুন: মুকুটমণিপুর পর্যটন কেন্দ্রের সামনে থেকে বিশ্ববাংলার গ্লোব সরিয়ে বসছে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই নায়ক সিধু- কানুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি। রাজ্য স্তরের হূল দিবস উৎযাপনের মূল অনুষ্ঠান এবার মুকুটমণিপুরে হতে চলেছে। মঙ্গলবার ৩০জুন সকাল ১০টায় এই মূর্তি উন্মোচন ও শ্রদ্ধা জানিয়ে হুল দিবসের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণে এই মূর্তি বসানোর কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা।
অন্যদিকে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে হুল দিবস উৎযাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি সহ প্রস্তুতির কাজ জোর কদমে চলছে। আদিবাসী অধ্যূষিত জেলার জঙ্গলমহল এলাকার রানীবাঁধের মুকুটমণিপুরে
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সাঁওতাল বিদ্রোহের দু’জন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা সিধু- কানুর মূর্তি বসানোয় স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক খুশি। অমলা মুর্মু, পাতামণি হাঁসদা ও ললিতা হেমব্রম সহ স্থানীয়দের বক্তব্য, রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর তারা অনেক কিছু পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরের ছেলে রানীবাঁধ কেন্দ্রের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুকে মন্ত্রী সভায় জায়গা দিয়েছেন। তাঁকে আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী করা হয়েছে। আদিবাসীদের উন্নয়নে এই দুই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উপযোগী। মুকুটমণিপুরে রাজ্য হূল দিবস উৎযাপন ও সিধু- কানুর মূর্তি বসানো আদিবাসীদের গুরুত্ব দেওয়ার নজির বলে তাদের ধারণা। তাদের বক্তব্য, “এত দিনে মুকুটমণিপুর আমাদের আমাদের” মনে হচ্ছে। এই পর্যটন কেন্দ্রে তারা বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিদিন জীবীকার জন্য আসছেন। এখন নিজেদের জায়গা বলে মনে হচ্ছে।
হুল দিবস উৎযাপন নিয়ে দফায় দফার বৈঠক চলছে। একলব্য বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠান সার্বিক সফল ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, রাইপুরের বিধায়ক ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা, জেলা শাসক, পুলিশ সুপার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা, খাতড়ার মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, রানীবাঁধের বিডিও ও পুলিশ আধিকারিকেরা প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন। এলাকা ঘুরে নিরাপত্তা ও যানচলাচল, পার্কিং ইত্যাদি খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসন মেনে করছে এই অনুষ্ঠানে জনজোয়ার হতে পারে। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্বর্ধনা জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জঙ্গলমহল এলাকায় তৎপরতা তুঙ্গে।
স্থানীয় শিল্পীদের বক্তব্য, এই সরকারের হাত ধরে জঙ্গলমহল এলাকার সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটুক। একসময় সন্ধ্যা নামলেই জঙ্গল মহল ধামসা মাদল ও গানের সুরে ভরে উঠতো। সেই চর্চা আবার ফিরে আসুক।

