অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২ জুন: ‘বানানের টিপস্’- সিরিজে অভিজ্ঞ শিক্ষক স্বপন ভট্টাচার্য লিখেছেন, “টি, টা, টুকু, খানি, খানা, গাছা, গাছি, গুলো, গুলি, গুলা, সমূহ, রাজি এই শব্দগুলোকে বলা হয় নির্দেশক।
এটাই কিন্তু নির্দেশকের পুরো তালিকা নয়। আরও অনেক আছে। আর এগুলোর মধ্যে সমূহ, রাজি এগুলো সাধারণত সাধু ভাষায় ব্যবহৃত হয়। যেমন: গ্রন্থসমূহ, তরুরাজি। এই নির্দেশকগুলোকে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সঙ্গে লাগালে তা সেই ব্যক্তি বা বস্তুটাকে বিশেষভাবে নির্দেশ করে। এছাড়াও এগুলো ওই ব্যক্তি বা বস্তুর সংখ্যা বা পরিমাণও নির্দেশ করে।
যদি বলি, ‘রাস্তায় লোক যাতায়াত করে’, আর ‘রাস্তাটায় লোকটা যাতায়াত করে’। প্রথম বাক্যে বোঝা যাচ্ছে যে কোনও রাস্তাতেই লোক যাতায়াত করে, কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে একটা বিশেষ রাস্তা আর একজন বিশেষ লোকের কথা বলা হয়েছে।
আমরা অনেক সময়ই সংশয়ে পড়ে যাই যে কী লিখব ‘টা’ না ‘টি’ অথবা ‘খানি’ না ‘খানা’? এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, আপনারা যে কোনো একটা লিখতেই পারেন। তবে নির্দেশক ‘টা’ যোগ করলে সাধারণত কিছুটা তাচ্ছিল্য ভাব প্রকাশ পায়। আবার আকাশটি, মেঘটি এইভাবে লিখলে কখনও কখনও দৃষ্টিকটু মনে হতেও পারে।
সে যাই হোক, আজকের টিপস্ হল যে এই নির্দেশকগুলো শব্দের পরে এলে তা কিন্তু শব্দের সঙ্গে সাঁটিয়ে লিখতে হবে। অর্থাৎ লোকটি, চোরটা, ছাতাখানা, বইখানি, দুধটুকু, বাড়িগুলো ইত্যাদি লেখার সময় নির্দেশকগুলো আলাদাভাবে লিখলে চলবে না।
অবশ্য কখনও কখনও নির্দেশক আগে এলে তা আলাদা করে লেখা যেতে পারে। যেমন: খান দুই, খান আষ্টেক। তবে ‘খানকতক’ একসঙ্গে লেখাই বাঞ্ছনীয়।
***

