অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১ জুন: অত্যধিক/অত্যাচার, ব্যবস্থা/ব্যাখ্যা— ‘বানানের টিপস্’ কলমে স্বপন ভট্টাচার্য লিখেছেন,
“উপরের শব্দগুলোর বানান লক্ষ করে দেখুন। প্রথম শব্দে ‘ত্য’ থাকলেও পরের শব্দটায় কিন্তু ‘ত্যা’ আছে। কেন? এর কারণ হচ্ছে সন্ধির একটা নিয়ম। কী সেই নিয়ম?
যদি কোনও শব্দের শেষে ই-কার বা ঈ-কার থাকে আর পরের শব্দটা (শব্দ না হয়ে প্রত্যয়ও হতে পারে) কোনও স্বরবর্ণ দিয়ে শুরু হয় তবে ই বা ঈ বদলে গিয়ে য-ফলা হয়ে যায়। আর পরের স্বরবর্ণটা ‘কার’ চিহ্ন হয়ে ওই য-ফলার পরে বসে। (সূত্র : ই/ঈ+ ই/ঈ ছাড়া অন্য স্বর = য-ফলা+স্বর।)
উপরের দুটো শব্দ নিয়েই প্রথমে আলোচনা করা যাক। অতি+অধিক = অত্যধিক এবং অতি+আচার = অত্যাচার। প্রথম শব্দে ই-কার বদলে য-ফলা হল বটে কিন্তু তার পরে আছে ‘অ’। আর ‘অ’-এর কোনও ‘কার’ চিহ্ন নেই তাই য-ফলার সঙ্গে কোনও ‘কার’ চিহ্ন এল না। শব্দটা হয়ে গেল ‘অত্যধিক’। আর দ্বিতীয় শব্দে ই-কার বদলে য-ফলা তো হলই তার পরের ‘আ’ বর্ণটা আ-কার হয়ে য-ফলার সঙ্গে জুড়ে গেল আর শব্দটা হয়ে গেল ‘অত্যাচার’।
আর আমাদের উচ্চারণের দোষেই হোক বা অত্যাচার জাতীয় শব্দের অনুষঙ্গেই হোক আমরা অনেক সময় ‘অত্যাধিক’ লিখে ফেলি। তাই এখন থেকে আমরা মনে রাখব ,
অতি+অন্ত = অত্যন্ত, ইতি+অবসরে = ইত্যবসরে, অতি+আবশ্যক = অত্যাবশ্যক, ইতি+আদি = ইত্যাদি, প্রতি+অন্ত = প্রত্যন্ত, আদি+অন্ত = আদ্যন্ত, প্রতি+আশা = প্রত্যাশা, প্রতি+আঘাত = প্রত্যাঘাত, প্রতি+এক = প্রত্যেক, প্রতি+ঊষ = প্রত্যূষ, অনুমতি+অনুসারে= অনুমত্যনুসারে (কিন্তু, আজ্ঞা+অনুসারে= আজ্ঞানুসারে [সন্ধিসূত্র আ+অ = আ], আদেশ+অনুসারে =আদেশানুসারে [সন্ধিসূত্র অ+অ = আ])।
আর তাই প্রতি+অর্পণ – প্রত্যর্পণ হলেও প্রতি+আবর্তন – প্রত্যাবর্তন। আবার বি পূর্বক শব্দগুলো নিয়েও আমাদের সমস্যার অন্ত নেই। বি+অবস্থা – ব্যবস্থা হলেও আমরা ভুল করে ‘ব্যাবস্থা’ লিখে ফেলি। ঠিক সেই কারণেই ব্যবহার, ব্যতিক্রম, ব্যভিচার, ব্যর্থ, ব্যয়, ব্যথা এই শব্দগুলোতে ‘ব্য’। আবার ব্যাখ্যা, ব্যাপার, ব্যাকরণ, ব্যাকুল এগুলোতে ‘ব্যা’।
তবে যদি ‘পরি’ শব্দের পর ই/ঈ ছাড়া অন্য কোনো স্বর আসে তাহলে? র-এ তো য-ফলা দেওয়া যাবে না। তখন আবার ওই ‘র’ হয়ে যাবে ‘রেফ’ আর য-ফলা না হয়ে থাকবে শুধু ‘য’। যেমন:- পরি+অন্ত = পর্যন্ত, পরি+আলোচনা = পর্যালোচনা, উপরি+উপরি = উপর্যুপরি।
তবে মনে রাখতে হবে ই, ঈ-এর পর আবার ই বা ঈ এলে কিন্তু হয়ে যাবে ‘ঈ-কার’। প্রতীক্ষা, পরীক্ষা, অতীত।
প্রাক্তন উপাচার্য তথা বাংলার অভিজ্ঞ শিক্ষক ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস সংযোজন করেছেন— “স্বর-সন্ধির বিধি — ই+ (ই /ঈ ছাড়া অন্য স্বর)= য-ফলা + পরের স্বর।
অতি + আচার =অত্যাচার, প্রতি + উপকার= প্রত্যুপকার। কঠিন নয়।”
***

