বরানগর থানার পুলিশের জালে এক ভুয়ো সিবিআই আফিসার, ধৃতের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগ

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৬ জুলাই: ফের পুলিশের জালে ভুয়ো সিবিআই আফিসার। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধান নগর কমিশনারেটের অন্তর্গত বাগুইহাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই ভুয়ো সিবিআই অফিসারকে। গ্রেফতার করে বরানগর থানার পুলিশ।

রাজ্যে উঠে আসছে একের পর এক জালিয়াতির কান্ড। ফাঁস হচ্ছে একের পর এক প্রতারনার চক্র। এবার ভুয়ো সিবিআই আফিসার ধরা পড়ল বরানগর পুলিশের হাতে। সিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দেবার নাম করে এক আইনজীবী দম্পতির কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বরানগরের শরৎচন্দ্র রোডের বাসিন্দা ওই আইনজীবী দম্পতি রবিবার কৃশানু মন্ডল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাগুইহাটি থেকে কৃশানু মন্ডল নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করে বরানগর থানা পুলিশ।

বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির ও তার স্ত্রী শিয়ালদা কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। ২০১৬ সালের একটি জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে শিয়ালদা কোর্টের আইনজীবী বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির কাছে যান কৃশানু মন্ডল নামে এক যুবক সেই সময় থেকেই বিশ্বজিতের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে। বিশ্বজিৎ বাবুর বরানগরের বাড়িতে কৃশানু আসা-যাওয়া শুরু করে আর সেই সুযোগেই বিশ্বজিৎ বাবু এবং তার স্ত্রী ইন্দিরা চ্যাটার্জির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয় অভিযুক্ত কৃশানু মন্ডলের।অভিযোগ, নিজেকে সে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে বরানগরের আইনজীবী এই দম্পতিকে সিবিআই অফিসে চাকরি দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে বাগুইহাটি রঘুনাথপুরের বাসিন্দা কৃশানু মন্ডল। এমনকি এই দম্পতির নামে ভুয়ো পরিচয় পত্র বানিয়ে দেয় কৃষানু। ওই আইনজীবী দম্পতিকে কাজে জয়েন করিয়ে দেবে বলে মাঝে মাঝেই তারিখ দিত আর জয়েন করার দিন কোনও না কোন অজুহাতে ওই দম্পতির সিজিও কমপ্লেক্সে যাওয়া আটকে দিত ধৃত কৃষানু।

৫ মাস আগে আইনজীবী দম্পতির সন্দেহ হয় তখন তাকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চালান ওই দম্পতি। এরপর অভিযুক্ত কৃষানু সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়। তখন কৃষানু মন্ডলের নামে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান আইনজীবী দম্পতি। এরই ভিত্তিতে বরানগর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল গভীর রাতে বাগুইআটি থেকে গ্রেফতার করে অভিযুক্ত কৃষানু
মন্ডলকে। সোমবার দুপুরে ধৃতকে পাঠানো হয় ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে। তদন্তের গতিকে ত্বরান্বিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *