সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ এপ্রিল: তীব্র গরমে পুড়ছে বাঁকুড়া। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ৪৩ ডিগ্ৰী অতিক্রম করেছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গরমে চরম দুর্ভোগে জনজীবন। গতকাল তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্ৰী অতিক্রম করে যায়, আজও অবস্থা একই পর্যায়ে। বৃষ্টির কোনও লক্ষণ নেই।
গত শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৪২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলা নববর্ষের দিন প্রকৃতি বাঁকুড়াবাসীকে এই উপহার দিয়েছে। ১লা বৈশাখ শুক্রবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি। বেলা ১১টার পর থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত গরমের জন্য জরুরি কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষই। রাস্তা কার্যতঃ শুনশান হয়ে বনধের চেহারা নিচ্ছে। গরমে সরবতের চাহিদা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। লেবুর দামও অস্বাভাবিক বেড়েছে। জেলার বাজারগুলিতে পাতিলেবু ছোট ৬-৭টাকা ও একটু বড় ১০টা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই গরমের ক্লান্তি দূর করতে পাতিলেবুর রস দেওয়া সরবত খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত নুন চিনির জলই খেতে হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এবার গরমে বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেক বেশি কষ্ট অনুভব হচ্ছে বলে নাগরিকদের বক্তব্য। বাঁকুড়ায় গরমে প্রচুর ঘাম দেয়। সেজন্য তপ্ত গরমেও একটা স্বস্তির ভাব অনুভব করা যায় কিন্তু এবার আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য ঘাম দিচ্ছে না। আর তাই গা জ্বালা করছে।
এবার দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর ও রাস্তার ধারে থাকা নয়ানজুলি শুকিয়ে গেছে। গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণীরা চরম জল কষ্টে পড়েছে। তাই বন্যপ্রাণীরা লোকালয় সংলগ্ন জলাশয় ও বড়গাছে আশ্রয় নিচ্ছে। সাপ ও অন্য বন্যপ্রাণীর ভয়ে গ্রাম সংলগ্ন ঝোপঝাড় পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণী মারা পড়ছে এবং পরিবেশ গরম হচ্ছে। বন্যপ্রাণীরা অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে। বনের মধ্যে জল, খাবার ও আশ্রয় তিন প্রধান বিষয়েই সমস্যা রয়েছে।তার ওপর মাঝে মাঝে বনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই তিনের সন্ধানে বন থেকে বেরিয়ে এলে মারা পড়ছে মানুষের হাতে। বন, বন্যপ্রাণী ও বন সংলগ্ন বাসিন্দাদের সুরক্ষা, জঙ্গলে আগুন লাগানো রোধ, বৃষ্টির জল ধরে রাখা, জল অপচয় রোধ ইত্যাদি নিয়ে নাটক ও গানের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন মাই ডিয়ার ট্রিজ এন্ড ওয়াইল্ডস। জেলার চাষিরাও এই গরমে অন্যবছরের তুলনায় সমস্যায় রয়েছেন।
অত্যাধিক গরমে সবজি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আঁচুড়ির রবিলোচন তন্তুবায়, বারিদ গরাই একথা জানিয়ে বলেন, সবজির দামও উঠছে না।লালবাজারের সবজি বিক্রেতা মালতি রায় জানান, তীব্র গরমের জন্য সবজি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদের সকলের বক্তব্য, বেলা ১১টার পর আর বিক্রির জন্য বসে থাকা যাচ্ছে না। তাই বেলা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তুলনামূলক কম দামেই সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। কোভিড সংক্রমনে কাজ হারিয়ে অনেকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবজি, ফল ও হরেক জিনিস বিক্রি করতে শুরু করেছিলেন, তারাও সমস্যায়। বাস ও টোটোর যাত্রী মিলছে না দুপুরে। বাসকর্মীদের বক্তব্য, তীব্র গরমে যাত্রীরা যাত্রা না করায় তাদের ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।

