রাজেন রায়, কলকাতা, ২৭ নভেম্বর: পুরসভা ভোটে শোভনের আসনে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয়েছে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। আর প্রার্থী হওয়ার চব্বিশ ঘন্টা না পেরোতেই যেন মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ল বিধায়কা রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। এবার কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালার পর্ণশ্রীর বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য আইনি নোটিস পাঠালেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, মাস দুয়েক আগেই ১৩৯ ডি মহারাণি ইন্দিরা দেবী রোডের চারতলা বাড়িটি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের থেকে কিনে নেন বৈশাখী। এরপর আজ আইনজীবী সুমন্ত বিশ্বাসের তরফে উচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হল রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। সেখানে বিধায়িকাকে অতি দ্রুত বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে। যেহেতু আইনিভাবে নোটিস পেয়েছেন তাই রত্নাও আইনি পথেই মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগেই শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজের সমস্ত সম্পত্তি বান্ধবী বৈশাখীর নামে উইল কররার পর রত্নাকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়।যদিও রত্না চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, তিনি বাড়ি ছাড়বেন না, প্রয়োজনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে আলাদা থাকলেও শোভন ও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে এখনও বিচ্ছেদ হয়নি। তবে, সম্পত্তির মালিক যেহেতু এখন তৃতীয় কেউ অর্থাৎ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, সেহেতু আইনত ওই বাড়িতে থাকার অধিকার শোভন বা রত্নার কারোর নেই, কারণ সেটা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যদিও উচ্ছেদ নোটিস পাওয়ার পর রত্নার বক্তব্য, “বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো করে জানেন এটা আমার বৈবাহিক সম্পত্তি। আমার দু’টো বাচ্চা আছে। এখন তাঁদের বাবা চলে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করে দিলেই তো আমরা লোটাকম্বল নিয়ে রাস্তায় বসতে পারি না। দেশের আইন আছে। আমি শেষ দেখব, সুপ্রিম কোর্ট অব্দি যাব।“
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা জানিয়েছেন, “এ ধরনের কথাবার্তা একজন বিধায়কের মুখে শোভা পায় কি না জানি না। এবার আবার উনি পুরভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাহলে এলাকার যারা এরকম বাড়ি দখল করে রাখে তাঁরা এবার ওনার কাছেই যাবে সাহায্য পাবার আশায়। আমি আশা রাখব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টিকে নজর দেবেন। যার এত সম্পত্তি রয়েছে তিনি আমার একটা বাড়ি নিয়ে কী করবেন। আর আমিও আমার কেনা বাড়ি ওনাকে এনজয় করতে দেব এরকম ভাবার কোনও কারণ নেই, উচ্ছেদ করার জন্য আমিও শেষ পর্যন্তই যাব।“

