সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৮ নভেম্বর: মৃতদেহ সৎকার করতে নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাক উল্টে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হল ১৮ জনের। এরমধ্যে একই পরিবারের ১৩ জন রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃত এবং আহতরা সবাই উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার পারমাদন এলাকার বাসিন্দা। রবিবার ভোররাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে নদীয়া জেলার হাঁসখালি থানা এলাকায়। এই ঘটনায় পারমাদন গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পারমাদন উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোপাল মুহুরীর স্ত্রী শিবানী মুহুরী (৭০) বয়সজনিত কারণে মারা যান। তাঁর মৃতদেহ সৎকার করার জন্য শনিবার রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ বাগদা থেকে একটি মিনি ট্রাকে পরিবার এবং পরিজন মিলিয়ে ২৭ জন নদিয়ার নবদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নদিয়ার হাঁসখালি থানার ফুলবাড়ি এলাকায় আসার পর সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পাথর বোঝাই ট্রাকে ওই ট্রাকটি ধাক্কা মারে। পাশাপাশি আরও একটি চলন্ত ট্রাক ওই ট্রাকটিকে ধাক্কা মারে। এরপর ট্রাকটি উল্টে যায়। আর তাতেই মৃত্যু হয় ১৮ জনের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বাকি ছয়জনের মৃত্যু হয়। এই নিয়ে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা।
সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে ৭ জন মহিলা এবং ১ জন শিশুও রয়েছে। ট্রাকের চালকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদের বাড়ি যায় বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিত দাস। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে আহত এবং নিহতদের কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আপাতত ১ জনকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শিবানী মুহুরীর পরিবারের যে ক’জন ওই ট্রাকে ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বজিতবাবু বলেন, কৃষ্ণনগর হাসপাতালে চিকিৎসার কোনও গাফিলতি ছিল না। কলবুক করায় সমস্ত চিকিৎসকরা হাসপাতলে হাজির হয়েছিল। এই দুর্ঘটনা মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, এতো বড় ঘটনা, যার দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা নেই। পরিবারের পাশে আমরা আছি। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন।

