রাজ্যের সংখ্যালঘুদের শংসাপত্র দেবে অসম সরকার

আমাদের ভারত, ৩০ মে: এবার অসমে সংখ্যালঘুদের নির্দিষ্ট করে চিহ্নিতকরণে উদ্যোগী হলো হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। সংখ্যলঘুদের শংসাপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। ওই রাজ্যে মুসলিম, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ এবং পার্সিদের সংখ্যালঘু শংসাপত্র দেওয়া হবে। রবিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেশব মহন্ত। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়ার ঘটনা দেশে সম্ভবত প্রথম। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে সহজেই সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করা যাবে। তাদের জন্য একাধিক সরকারি প্রকল্প রয়েছে, আলাদা দপ্তর রয়েছে ফলে কারা সংখ্যালঘু এবার তাদের চিহ্নিত করে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

মহন্ত দাবি করেছেন, অসম সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে এই শংসাপত্র তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। তবে কীভাবে সংখ্যালঘু বাছাই করা হবে তা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজ্যে সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ সভাপতি হাবিব মহম্মদ চৌধুরী এই সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি। তার মতে এর ফলে উপকৃত হবেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি বলেন, এটা আমাদের বহু দিনের দাবি ছিল। সরকারি ভাতা ও অনুদান পেতে অসুবিধা হচ্ছিল বহু ছাত্রদের। সংখ্যালঘু চিহ্নিতকরণের অসুবিধার কারণে অনুদান পাননি অনেকে, এবার সেই সমস্যার সমাধান হবে। অসমের হাত ধরেই দেশের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়া শুরু হলো।

বর্তমানে কেবল তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণিকে শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকে। এবার যদিও সংখ্যালঘুদের জন্যেও আলাদা করে ধর্মীয় শংসাপত্র দেওয়া চালু হলো। বিরোধীদের দাবি, সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করা বিজেপি সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনেকের মতে এর ফলে বিভাজন বাড়বে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৬১.৪৭ শতাংশ হিন্দু, ৩৪.২ শতাংশ মুসলিম, ৩.৭৪ শতাংশ খ্রিস্টান, বৌদ্ধ শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *