আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৬ আগস্ট: ‘রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।‘ এভাবেই সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী হলেন বিধানসভার সদ্য বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে রামপুরহাট ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি সংলগ্ন অফিস থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রকে।
ছাত্রাবস্থা থেকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্রাবস্থা শেষে রামপুরহাট কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগদান করেন। প্রথম দিকে কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তৃণমূলের টিকিটে প্রথম রামপুরহাট বিধানসভায় জয়ী হন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। এরপর আয়ুস, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি ডেপুটি স্পিকার পদে আসীন ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আশিসবাবু বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন।
নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ৬০ জন বিধায়কের মতো তিনিও ঋতব্রত তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। তাতেও ভারাক্রান্ত ছিল তাঁর মন। শেষের দিকে প্রাতঃভ্রমনে গান্ধীপার্কে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। একদিকে হেরে গিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, অন্য দিকে তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতিতেও তাঁর নাম বাতাসে ঘুরে বেরাচ্ছিল। সেই কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা।
আশিসবাবু মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে তিনি তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতি বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি মৃত্যুকালীন জবানবন্দীতে লিখেছেন, “কোনদিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি।” তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ প্রসঙ্গে তিনি লিখে গিয়েছেন “আমার চেক পাওয়ার ছিল না। প্ল্যান পাশ, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে ছিল না। টেন্ডার কমিটিতে আমি ছিলাম না। অথচ আমার বদনাম করার জন্য যা সব করা হলো তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। বংশের ছেলেদের রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিচ্ছি”। চিঠির শেষে পরিবারের সকলকে ভালো থাকার পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন তিনি।
আশিসবাবুর ছোটভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত গল্প করেছি। তারপর যে যার মতো খেয়ে শুয়ে পরি। সকালে উঠে পার্টি অফিসের আলো জ্বলছে দেখে এগিয়ে যাই। দরজার ভিতর দিক থেকে শেকল তোলা ছিল। দরজা একটু ঠেলতেই দেখতে পাই দাদা ঝুলছে। এরপর আমি চিৎকার করতে শুরু করি। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধার করে।”
প্রশান্তবাবুর দাবি, দাদার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যারা অভিযোগ করছেন তারা মিথ্যা কথা বলছেন। এদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে যাওয়ার জন্য উঠে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

