মেদিনীপুরে বিপ্লবীর স্মৃতি ভবনে প্রেক্ষাগৃহে সায় নেই শিল্পীদের

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২১ মে: মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেও শহিদ প্রদ্যোৎ স্মৃতি ভবনে প্রেক্ষাগৃহ হোক তা চাইছেন না মেদিনীপুরের শিল্পীদের একাংশ। জেলা বোর্ডের বৈঠকে থাকাকালীন অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক ডগলাসকে এই জেলা পরিষদ চত্বরেই হত্যা
করেছিলেন মেদিনীপুরের এই বিপ্লবী। তার স্মৃতিতেই ভবনের নাম হয় শহিদ প্রদ্যোৎ ভবন।

শিল্পীরা জানিয়েছেন, ভবনটি সিনেমা দেখানোর প্রেক্ষাগৃহে পরিণত হলে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রচন্ড অসুবিধায় পড়বেন। কারণ শহরে এই একটিমাত্র সাংস্কৃতিক হল রয়েছে যেখানে সারা বছর ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলে। বিপ্লবীর নামের ভবনটিতে প্রেক্ষাগৃহ করার পক্ষে সহমত হতে পারেননি লোকশিল্পী দীপঙ্কর শীট, বাচিক শিল্পী সুতনুকা মিত্র, শুভদীপ বসু ও সঙ্গীত শিল্পী আলোক বরণ মাইতি প্রমুখ। ১৯৮২ সালে মেদিনীপুরের বীর বিপ্লবীদের অন্যতম বেঙ্গল ভলান্টিয়ারের সদস্য প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্যের স্মৃতিতে নির্মিত এই ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। গত ১৭ মে মেদিনীপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ  দেবের উপস্থিতিতে মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া মুখ্যমন্ত্রীকে জেলা শহরের একটি সিনেমা হলের প্রয়োজনের কথা জানান। তখন মুখ্যমন্ত্রী এই ভবনটিকেই প্রেক্ষাগৃহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, এখানে করলে কেমন হয়? 

শিল্পীদের বক্তব্য, বিধায়ক জুন মালিয়া মুখ্যমন্ত্রীকে ভালো প্রস্তাবই দিয়েছিলেন। কিন্তু অন্যত্র জমি দেখে সিনেমা হল করা হলে ভালো হয়। পুরোপুরি সিনেমা হল করা না হলেও মাঝেমধ্যে সিনেমা দেখানো এবং চলচ্চিত্র উৎসব করার ক্ষেত্রে ভবনটি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *