টাকা রাখতে মাটির নিচে বাঙ্কার তৈরি করেছিলেন অর্পিতা, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মামি

আমাদের ভারত, ২৬ জুলাই:
টাকা রাখার জন্য বাড়িতে মাটির নিচে বাঙ্কার তৈরি করেছিলেন অর্পিতা। হুগলির জঙ্গিপাড়ায় মথুরাবাটি গ্রামে অর্পিতার বাড়িতে এই বাঙ্কার আছে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন খোদ অর্পিতার মামি স্বপ্না চক্রবর্তী।

মথুরাবাটি গ্রামে তিন মাস আগে নতুন সাদা রংয়ের একতলা বাড়ি বানান অর্পিতা। সেই বাড়িতেই নাকি মাটির নিচে টাকার রাখার বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে বলে স্বপ্না চক্রবর্তীর দাবি।

অর্পিতার মামী বলেন, রাজমিস্ত্রিদের মুখেই শুনেছিলেন বাঙ্কার বানানোর কথা। সেই সময় এই বিষয়ে এতো গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে ওখানে টাকা লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। তাই পুলিশের একবার তল্লাশি করা উচিত ঐ বাড়িতে।

স্বপ্না দেবী জানান, এক সময় সেখানে অর্পিতার দাদু, মামা, মাসি থাকতেন। পরে তারা চলে যান। জায়গাটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সেই জায়গায় নতুন বাড়ি তৈরি করেন অর্পিতা। এই নতুন বাড়ির সামনেই অর্পিতার মামাবাড়ি।

এই ঘটনায় পার্থকাণ্ডে এবার হুগলিও যোগ হয়ে গেল। মামির আরও দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় জাঙ্গিপাড়ায় তার ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের মামাদের নতুন বাড়ি তৈরি করে দেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেখানে একটি নয়, দুটি বাড়ি তৈরি করে দেন। শুধু বাড়ি তৈরি করাই নয়, অর্পিতা–পার্থর মাধ্যমে তার আত্মীয়দের চাকরি হয় বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ফ্ল্যাট থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। আর তারপর থেকেই সামনে আসছে এমন অনেক টুকরো টুকরো ঘটনা। জানা যাচ্ছে, হুগলির জঙ্গিপাড়ায় মথুরাবাটি গ্রামে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের মামাবাড়ি। মামা তপন চক্রবর্তী গ্রামে দরিদ্র বলে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু আচমকাই তাদের অবস্থা বদলে যায়। দরিদ্র দশা থেকে রাতারাতি বড়লোক হয়ে ওঠেন তারা। চার-পাঁচ মাস আগেই নতুন বাড়ি হয় অর্পিতার মামাদের। পাশাপাশি পুরনো বাড়িটিও মেরামতের পর একদম নতুন করে তোলা হয়। একসময় যেখানে দরিদ্রতার ছাপ ছিল বর্তমানে সেখানে বাড়ি, গাড়ি থেকে আরম্ভ করে অত্যাধুনিক অন্যান্য সব সুবিধা রয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, জঙ্গিপাড়া গ্রামে মামাবাড়িতে মাঝেমধ্যে অর্পিতাকে নিয়ে আসতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নতুন বাড়ি তৈরি করে দেন পার্থবাবু। পাশে আরো একটি বাড়ি তৈরি করে দেন। এমনকি বাড়ি তৈরীর জন্য জোর করে তাদের জমি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এছাড়াও অভিযোগ, গ্রামবাসীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করতেন অর্পিতা। ক্ষমতার ভয় দেখাতেন তাদের। তাই কেউ তাকে ঘাটাতে সাহস পেতো না।

তারা আরো জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই একদিন চাকরি পেয়ে যান অর্পিতার মামাতো ভাই কুন্তল চক্রবর্তী। অর্পিতার কারণেই পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠদের একজন হয়ে উঠেছিলেন কুন্তল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *