অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২০ এপ্রিল: “অর্থলগ্নি সংস্থার নতুন একটি প্রতারনার খবর সামনে এসেছে। আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকার প্রতারণা। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।“ এই মন্তব্য করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ ব্যাপারে শ্বেত পত্র প্রকাশের আবেদন করল অল বেঙ্গল চিট ফান্ড সাফারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রূপম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বুধবার বলেন, “কোটি কোটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে রক্ষা করুন। ২০১৩ সালে সারদা, রোজভ্যালি, অ্যালকেমিষ্ট, টোগো গ্রুপ অফ কোম্পানি, প্রয়াগ-সহ রাজ্যে ছোট বড় ৩৫৬ টি অর্থ লগ্নি সংস্থা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা মানুষের কাছ থেকে লুঠ করেছে। সারা দেশে আনুমানিক ৭ লাখ কোটি টাকা লুঠ হয়েছে।
২০১৬/১৭ সালের পরে আবার নতুন করে শেয়ার বিক্রি ও ফিক্সড ডিপোজিট এর নতুন কৌশলের জাল ও ফাঁদ পেতে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে। এই বিষয়টি একাধিক বার আমাদের সংগঠন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের গোচরে আনে। শুধু তাই নয় আমরা সিবিআই, ইডি, সেবি এবং ইওডাব্লুউ- র নজরে আনি। কিন্তু এদের পক্ষ থেকে এই নতুন এই প্রতারণা রুখতে ন্যূনতম কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
করোনা কালে এই জাল এ রাজ্য সহ সারা দেশে বিস্তার লাভ করেছে। অর্থ লগ্নি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সমস্ত শাসক গোষ্ঠী যুক্ত। রাজ্য সরকারগুলোর ও কেন্দ্রীয় সরকারের বহু মন্ত্রী, নেতা যুক্ত বা কোনও না কোনওভাবে মদত দিয়েছেন। বহু তথ্য আমরা সংবাদ মাধ্যমে তুলে দিয়েছি।
অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নাম এই কেলেঙ্কারীর সাথে যুক্ত। এই রাজ্যের শাসক গোষ্ঠী ও বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত ও বর্তমানে শাসক গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত এরা হাজার হাজার কোটি টাকা ভাগ পেয়েছে। ডেলো পাহাড়ের ঘটনা আপনাদের স্মরণে আছে। সারদা কর্তার জেল থেকে বক্তব্য ও রহস্যজনক লাল ডাইরির হদিস আজও পাওয়া গেলো না। পুলিশকর্তা গ্রেফতার হলেন না। সমস্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের একটা গোপন সমঝোতা সকলে আশংকা করেছেন। প্রয়োজনে আমরা আরও তথ্য প্রমান সংবাদ মাধ্যমে তুলে দেবো।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ২০১৪ সাল থেকে সিবিআই, সেবি, ইডি সহ এ রাজ্যের সরকারের গঠিত ইওডাব্লু কোনও কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়নি। কেন, রহস্য কোথায়? শুধু তাই নয় ২০১৯ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁরা পুনরায় সরকারে ফিরলে ১২০ দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করবেন।
রাজ্যের মাননীয় মূখ্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমাদের সংগঠন লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলেছে। ৭ বছর ধরে আন্দোলন চলছে। অত্যন্ত আশ্চর্যের ২০১৪ সাল থেকে সি বি আই তদন্ত করা সত্বেও তদন্ত গভীর জলে। আমাদের আশংকা সময়ের দীর্ঘ সূত্রিতায় কালের গর্ভে স্বাধীনতার পর ঘটে যাওয়া এই বৃহৎ কেলেংকারী হারিয়ে যাবে। এটাই শাসক গোষ্ঠীর পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে এরাজ্যে ৩০০ অধিক আত্মহত্যা করেছে। হাজার হাজার মানুষ তিলে তিলে মারা যাচ্ছেন। সারা দেশের চিত্র আরও ভয়াবহ।“

