আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: বিল পেশের পর থেকেই সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। বিরোধিতাও করেছিলেন। তবে এত কিছুর মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল পাবলিক এক্সামিনেশন(প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাট ২০২৪ সংশোধনী বিল। জানাগেছে, বিলটি ধনি ভোটে পাস হয়েছে লোকসভায়।
সোমবার এই বিলটি সংসদের নিম্ন কক্ষে পেশ হয়েছিল। দিন দুয়েক আলোচনা হয়েছে বিলটি নিয়ে। তবে বিরোধীদের দাবি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিলের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেননি।
বুধবারে বিল নিয়ে আলোচনার সময় রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দিল্লিতে প্রতিবাদরত পড়ুয়াদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে বিবৃতি দিতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’কে। কিন্তু এদিন লোকসভায় উপস্থিতিই ছিল না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাহুলের মন্তব্যের পরই লোকসভায় ভোটাভুটি শুরু হয়। ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই বিরোধীরা ওয়াক আউট করেন। শেষ পর্যন্ত বিল পাস হয়ে যায় কয়েকদিনের মধ্যেই তা পেশ হবে রাজ্যসভায়।
গত ৩ মে এই বছরের প্রথম নিট পরীক্ষা হয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী সেই পরীক্ষায় বসে। কিন্তু তার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে প্রশ্ন ফাঁসের খবর। বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বাতিল করেন দেয় এনটিএ। হতাশ বহু পড়ুয়া আত্মঘাতী হন। দেশ জুড়ে দাবি ওঠে পদত্যাগ করতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সিজেপির নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসটা মহাপাপ। তবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সরকার পদক্ষেপ করেছে।
এরপর সোমবার প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী আইন সংশোধনী বিল আনে মোদি সরকার। বিলে বলা হয়েছে দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা। এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। যে সমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানার অঙ্কটা দশ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এই নতুন আইনের ফলে। সোমবার এই বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দুদিনের মধ্যেই এই বিল পাস হয়ে গেল লোকসভায়।

