Tulu Mondal, Birbhum, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়র বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা ও সোনা

আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ জুলাই: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়র বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা এবং সোনার বিস্কুট উদ্ধার করলো বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। বুধবার রাতে মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীলেশ শ্রীকান্ত গায়কোয়াড়। খবর লেখা পর্যন্ত ১৫ কেজি সোনা এবং নগদ ২০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। টাকা গোনার জন্য পাঁচটি মেশিন নিয়ে টাকা গণনা করা হয়েছে। খবর লেখা পর্যন্ত টাকা গণনা চলছে। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রসঙ্গত, মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল ছিলেন এলাকার পাথর ব্যবসায়ী। তৃণমূলের রাজত্বে তিনি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পাথর খাদানের পাথর বিক্রি করে ফুলেফেঁপে উঠেছিল। পাশাপাশি তিনি জেলার ছয়টি পাথর শিল্পাঞ্চলের গেটে সরকারি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে যেখানে রাজস্ব আদায় হচ্ছে মাসে ৮৩ কোটি টাকা। সেখানে ২– ৫ কোটি টাকা দিয়ে বাকি টাকা টুলু মণ্ডল আত্মসাৎ করতেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কয়লা, গরু, বালি পাচারও হতো তার হাত ধরেই। বিজেপির অভিযোগ, সেই অবৈধ টাকার ভাগ ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে পৌঁছে যেত কালীঘাটে। ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন জনসভায় টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। দিন কয়েক আগে দু- দুবার কয়েক লক্ষ সিএফটি অবৈধ বালি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। এবার টাকা ও সোনা উদ্ধার হলো।

টুলু মণ্ডল ছিলেন তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। এমনকি অনুব্রত মণ্ডল একাধিকবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টুলু মণ্ডলের হয়ে সাফাই গেয়েছিলেন। ফলে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সাহায্য পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিল পাথর ব্যবসায়ী। একাধিক অপরাধ করে থাকলেও পুলিশ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। গরু ও কয়লা পাচার মামলায় টুলু মণ্ডলের মহম্মদবাজার এবং সিউড়ির বাড়িতে সিবিআই এবং ইডি তদন্ত চালিয়েছিল। এমনকি বেশ কয়েকবার কলকাতার নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে টুলু মণ্ডলকে কার্যত শেল্টার দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

মিনার মণ্ডল এক সময় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে অবৈধ ব্যবসায় যোগ দেন। এরপর থেকে তার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রাজনৈতিক ডামাডোলে দিশাহারা হয়ে টুলু মণ্ডলের টাকা ও সোনার গয়না গচ্ছিত রাখত। সেই টাকাই বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উদ্ধার করে বলে দাবি বিজেপির।

এই অভিযান নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানে আমাদের পুলিশ প্রশাসন প্রশংসনীয় কাজ করেছে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উন্মোচিত হয়েছে। বীরভূম জেলা পুলিশ কর্মীদের তাদের দ্রুত, পেশাদার এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের জন্য আমি গভীরভাবে প্রশংসা করি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’কে পথপ্রদর্শক নীতি হিসেবে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট করা হচ্ছে কলঙ্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও যারা সরকারি সম্পদ শোষণ করে এবং তৎকালীন শাসক রাজনৈতিক দলের সাথে আঁতাত করে সম্পদ গড়ে তুলেছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। সরকারি সম্পদ জনগণের, এবং যারা তা লুট করবে, তারা আইনের পূর্ণ শক্তির সম্মুখীন হবে। সতর্কতা ও আপসহীন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। মাফিয়া সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।”

রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “এই টাকাতেই তৃণমূলের দল চলত। আমরা বার বার বলে এসেছি বীরভূমের তোলাবাজির টাকায় চলছে তৃণমূল কংগ্রেস। বালি, কয়লা, পাথর, গরু পাচার করে এই বিশাল টাকা গচ্ছিত করেছিল টুলু মণ্ডলের আত্মীয়। অবিলম্বে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *