সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ মে: রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেড বৃদ্ধির ঘোষণায় খুশি সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে হাসপাতালের হাল ও চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের আশা এবার হয়তো হাসপাতালে সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে।
উপযুক্ত আস্তানার অভাবে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে খোলা আকাশের নিচেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হয় রোগীর পরিজনেরা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা বেড বৃদ্ধি ও হাসপাতালের মানোন্নয়নে সরকারের কড়া সিদ্ধান্তে এই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ রাজ্যের প্রথম শ্রেণির। বাঁকুড়া জেলা ছাড়াও পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকেও রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন এই হাসপাতালে। এই হাসপাতালে ১৬০০ বেডের মধ্যে ১৪৪০টি চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ১৬০টি বেড অব্যবহৃত রয়েছে। এই হাসপাতালে গড়ে দৈনিক ১৬০০ থেকে ১৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। স্বাভাবিক ভাবেই রোগীদের একাংশকে বেড দেওয়া সম্ভব হয় না।ভর্তি থাকা রোগীর তুলনায় বেড কম থাকায় অগত্যা দেড় থেকে দুশো রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে শুয়েই নিতে হয় চিকিৎসা পরিষেবা। এনিয়ে রোগী, রোগীর পরিবার এমনকি স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সরব হয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রসূতি ও মেডিসিন বিভাগের এই চাপ খুব বেশি। তাই প্রসূতি বিভাগে মাঝে মধ্যেই এক একটি বেডে একাধিক রোগীকে ভর্তি করা হয়। মেডিসিন বিভাগে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের করিডোরের মেঝেতেই শুয়ে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে বেড সংখ্যা বাড়ানোর যে কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে আশার আলো দেখছেন রোগী ও রোগীর পরিজনেরা।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে প্রতিটি হাসপাতালে বেড বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এতেই হাল বদলের আশা করছেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী ও পরিজনেরা।
হুড়া থেকে আসা নবনীতা দে ও সনাতন দে। কমলপুর থেকে আসা আনন্দ টুডু ও নন্দ সরেন, এই সকল রোগীর আত্মীয়রা বলেন সরকার বদলের পর খাবারের মানও উন্নত হয়েছে। এনিয়ে প্রায় অভিযোগ উঠতেও শোনা যেত। গত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা আজও সাধারণ মানুষের মনে দগদগ করছে। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছিলেন খোদ বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা। রোগীদের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিজের চোখে খতিয়ে দেখতে। স্থানীয় বিধায়কের এই আচরণে মৌচাকে ঢিল ছোঁড়ার মত হয়ে গিয়েছিল।বিজেপি বিধায়ক বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে খাবারের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এতেই জ্বলে ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন শাসক দল তৃণমূলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। তারা হাসপাতালের রান্না ঘরে বিধায়কের এভাবে প্রবেশাধিকারের প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সরব হয়ে ছিলেন। অনুমতি ছাড়া এভাবে মেডিক্যাল কলেজের রান্নাঘরে প্রবেশ করা বেআইনি ও অন্যায় বলে সরব হয়েছিলেন হাসপাতাল সুপার, তৃণমূলের স্থানীয় সাংসদ এবং তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। নিলাদ্রী বাবুর বক্তব্য ছিল, এই হাসপাতালের খাবার নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বিধায়ক হওয়ায় তার কাছে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন।তাই তার নৈতিক দায়িত্ব ছিল।
এপ্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ হাসপাতাল কর্মীর মতে বেড বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মী সবই বাড়াতে হবে, না হলে সুষ্ঠু পরিষেবা কি ভাবে সম্ভব। পুননির্বাচিত বিধায়ক নিলাদ্রী দানা বলেন, হাসপাতালে সব ঠিকঠাক নেই। রোগীরা যাতে সুষ্ঠ পরিষেবা পায় সে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

