আমাদের ভারত, ২২ ফেব্রুয়ারি: সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হবে। ১৫ দিনের মধ্যে সিট তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে। সেই মত আনিসের বাড়িতে পৌঁছে ছিল সিটের আধিকারিকরা সোমবার রাতে। ব্যাস ওইটুকুই সিটের আধিকারিকরদের আনিসের বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তারা সিবিআই তদন্ত চান সিট নয়।
সোমবার রাতের পর তদন্তকারী আধিকারিকরা আবার মঙ্গলবার দুপুরে আনিসের বাড়িতে যান। সিটের দুই আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি সরকার এবং মিরাজ খালিদ। সদ্য ছেলে হারানো বাবা ও আনিসের দাদা স্পষ্ট করে সিটের আধিকারিকদের জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিটের তদন্তের তাদের ভরসা নেই। তারা বলেন, “আমরা বারবার বলছি যে পুলিশ খুন করেছে সেই পুলিশকে দিয়ে তদন্ত মানি না।”
তদন্তকারী সিটের দুই আধিকারিক আনিসের বাবা ও দাদাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তারা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরী সিটকে তারা বয়কট করেছেন তাই চিঠি পড়েই সিটকে বিদায় জানিয়েছেন পরিবার। আনিসের বৃদ্ধ বাবা স্পষ্ট করে বলেন, “দিদিকে আমরা শ্রদ্ধা করি কিন্তু সিটকে দিয়ে তদন্ত করা হলে হবে না, আমরা সিবিআই চাই।” এই কথা শোনার পর সিটের দুই আধিকারিক বলার চেষ্টা করেন দিদি সিট গঠন করে দিয়েছেন। তাতে আনিসের বাবা মুখের উপরই বলেন, “দিদি করে দিয়েছেন কিন্তু যে পুলিশ মার্ডার করল তাদের দিয়েই তদন্ত এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি সিবিআই তদন্ত ছাড়া মানবো না। দিদি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। দিদিকে আমরা ফোন করে বলে দেবো। আপনারা চলে যান।”
সিটের দুই সদস্য আনিসের দাদা এবং বাবাকে বারবার অনুরোধ করেন সেদিনের ঘটনার বিবরণ বয়ান আকারে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই তাতে রাজি হননি। ফলে আনি খানের পরিবারের বয়ান ছাড়াই তাদের গ্রাম ছাড়তে হয়েছেন। আধিকারিকরা যখন তদন্তে এসেছিলেন তখন আনিসের বাড়িতে স্থানীয় মানুষের ভিড় ছিল। আনিসের বাবা প্রশ্ন তোলেন, চার দিন কেটে গেছে কেনো এখনোও একজন খুনিকেও ধরতে পারলেন না? তাতে আধিকারিকরা বলেন, তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাতে তিনি বলেন, “সাসপেন্ড নয় সাজা-সাজা। আমার ছেলেটাকে যারা মারলো তাদের সাজা চাই।”

