সততার নজির, পানাগড়ে কুড়িয়ে পাওয়া ১০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিল গৃহবধূ

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১ জানুয়ারি: সততাই একমাত্র চলার পথ। সংসারে অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী। তবুও হাত পড়েনি কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ওপর। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরাতে দিনভর ব্যাঙ্ক, থানা পুলিশ করতে হয়েছে। অবশেষে দুদিন পর কুড়িয়ে পাওয়া টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দিল কাঁকসার সিলামপুরের গৃহবধূ। 

ইশমাতারা খাতুন। কাঁকসার সিলামপুরের বাসিন্দা। পেশায় গৃহ শিক্ষিকা। টিউশান পড়িয়ে তার সংসার চলে। পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজ করেন। করোনা আবহে হাটে বাজারে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন ও মাস্ক বিলি করেছেন। এখনও সেই কাজ চলছে। আবার অরণ্য সপ্তাহে নিজের পড়ুয়াদের নিয়ে বৃক্ষরোপন করা, কখনও গ্রামের ছেলে মেয়েদের স্বাস্থ্য সচেতন করা, নানান সেবামূলক কাজ কর্ম করে থাকেন। গত ৩০ ডিসেম্বর পানাগড় স্টেট ব্যাঙ্কে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ব্যাঙ্ক চত্বরে নগদ ১০ হাজার টাকা কুড়িয়ে পান। কিন্তু কার টাকা, কিভাবে ফেরত দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরদিন আবারও তিনি কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরাতে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু, আইনি জটিলতায় ওই টাকা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার জমা রাখতে অপারগ ছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি কাঁকসা থানায় যান। সেখানেও ওই টাকা গচ্ছিত রাখা যায়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত থানায় নিজের নাম ঠিকানা জমা দিয়ে গোটা বিষয়টি জানিয়ে আসেন তিনি। এবং কুড়িয়ে পাওয়া টাকা না ফেরাতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। পরে ব্যাঙ্ক সুত্রে জানা যায়, ওই টাকা পানাগড় অনুরাগপুরের বাসিন্দা বিভূতি মজুমদারের।

শনিবার বিভূতিবাবুকে সঙ্গে নিয়ে ইশমাতারা খাতুনের বাড়িতে পৌঁছান ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আশীষ কুমার। ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মধ্যস্ততায় বিভূতিবাবুর হাতে ওই টাকা তুলে দেন ইশমাতারা। টাকা ফিরিয়ে দিতে পেরে ইশমাতারা খাতুন জানান, “সততাই একমাত্র চলার পথ। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরাতে না পেরে ঘুম উড়ে গিয়েছিল। মনের মধ্যে শঙ্কা হচ্ছিল, যার টাকা তার পরিবারে যদি কোনও বিপদের মধ্যে পড়েছে। হতে পারে কোনও বাবা-মা তার পেনশনের টাকা তুলেছিলেন হারিয়ে ফেলেছেন। তাই দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। টাকা ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব খুশী। সমাজের সমস্ত মানুষের মধ্যে এই সততা থাকা দরকার।’

অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া টাকা ফিরে পেয়ে বিভূতিবাবু জানান, “খুব খুশী। এবং কৃতজ্ঞ।”

পানাগড় এসবিআই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার আশীষ কুমার জানান, “কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে নিজে ব্যাঙ্কে ও থানায় গিয়েছেন। এর জন্য ইশমাতারা খাতুনের কাছে কৃতজ্ঞ।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *