আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: হিজাব বিতর্কে উত্তপ্ত হয়েছে দেশ। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় পোশাক নয় ইউনিফর্ম পরাই উচিত। তবে বিষয়টি যেহেতু কর্ণাটক হাইকোর্টে বিচারাধীন তাই আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই তিনি মেনে নেবেন।
কর্ণাটক সরকার গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিজাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আর তারপর থেকেই সেই রাজ্যে হিজাব ইস্যুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে উদুপি জেলায় বিক্ষোভের জেরে একাধিক স্কুল-কলেজে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখে রাজ্য সরকার। এদিকে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করে কিছু মুসলিম ছাত্রী। বর্তমানে সেই মামলার শুনানি চলছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সব ধর্মের মানুষের উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ড্রেসকোডকে মান্যতা দেওয়া। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলবে নাকি ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেবে?” তিনি আরও বলেন, “আদালত যতদিন না সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এই বিষয়ে ততদিন অবধি আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসে থাকতেই পারে। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে তাঁকে আমি মেনে নেব। প্রত্যেকেরই মানা উচিত।”
এদিকে কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক দেশের গন্ডি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে এই ইস্যুর প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেখানে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মৌলবি সংখ্যালঘু হিন্দুদের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। অন্যদিকে পাক বিদেশ মন্ত্রী হিজাবের ইস্যুতে ভারতের সমালোচনা করেছেন। আর তাতে নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো রকম উস্কানিমূলক মন্তব্যকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

