জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৮ মে: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের প্রাক্তনীরা এগিয়ে এলেন বিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার কাজে। গত ২১মে ২০২১ প্রকৃতি ও পরিবেশ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ সুন্দরলাল বহুগুণা প্রয়াত হন। ২৬ মে ২০২১ সাইক্লোনিক ঝড় যসের দাপটে তছনছ হয়ে যায় বাংলা ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল। রেহাই পায়নি পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলও। অনেক গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যপ্রাণ। মৌপাল স্কুলের গাছপালাও অনেক ভেঙ্গে গেছে। উপড়ে পড়েছে বৃক্ষজাতীয় গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলগাছ, বড় বড় গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো বাঁচাতে এগিয়ে এল প্রাক্তনীরা। উপড়ে পড়া গাছ লাগাল, ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলোকে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে বাঁধল, মাটি ধরালো শতাধিক গাছের গোড়ায়।
জঙ্গলমহলের মানুষ বন অন্তঃপ্রাণ। জঙ্গলই জীবন ও জীবিকা। তাদের পরিবারের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি মৌপাল স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা এভাবেই পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এল। এভাবেই প্রাণ বাঁচাল ছোটবড় অনেক গাছের। সুন্দরলাল বহুগুণার প্রতি শ্রদ্ধা জানাল গাছকে জড়িয়ে বাঁচার ও গাছকে বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে। শ্রদ্ধা ও স্মরণে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলেন সদ্য প্রয়াত চিপকো আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সুন্দরলাল বহুগুণা।
এই কর্মকাণ্ডে সামিল হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড: প্রসূন কুমার পড়িয়া, পরিচালন সমিতির সভাপতি শশাঙ্ক কুমার ধল, শিক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষক দেবব্রত সাঁতরা, সহকর্মী গৌরাঙ্গ চালক, অভিভাবক রবিউল খান ও দশজন প্রাক্তনী।

প্রাক্তনীর পক্ষে অমল মাহাত জানান, বিদ্যালয় আমাদের প্রাণ। আর সেই প্রাণের সম্পদ তার গাছপালা, প্রকৃতি। তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। তাই প্রধান শিক্ষক মহাশয় বিষয়টি জানাতেই আমরা এককথায় রাজি হয়ে যাই। প্রাক্তন ছাত্র বিমল মাহাতও একই কথা বলেন। প্রধান শিক্ষক তথা বিদ্যালয়ের এই গাছপালা রক্ষার ব্রতে অন্যতম ব্রতী প্রসূনকুমার পড়িয়া বলেন, প্রাক্তনীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পড়ে যাওয়া গাছ বাঁচিয়ে তুলতে পারছি। সমস্ত গাছে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এ বড়ই গর্বের ও আনন্দের। দেবব্রতবাবুর তত্ত্বাবধানে এই বৃক্ষরোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্তমানে সেগুলোর পরিচর্যা আমাদের পরিবেশ দিবস পালনের প্রাক্কালে আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। প্রসঙ্গত, বিদ্যালয় চত্বরে প্রায় চারশো গাছ আছে।


