সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ জানুয়ারি: কোভিড ১৯ আর নানা প্রতিকূলতায় পুরুলিয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে টুসুর ঘর চৌডল তৈরির কুটির শিল্প। মরসুমী হলেও পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকে গ্রামাঞ্চলের ভাবাবেগ। কোভিড ১৯ আর নবীন প্রজন্মের অনীহার যাঁতাকলে এই কুটির শিল্প। চৌডল রঙচঙে হলেও পেশাটা আজ যেন বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

টুসু বিসর্জনের জন্য অপরিহার্য হল চৌডল। রকমারি কাগজ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি টুসুর এই ঘর তৈরি একটা কুটির শিল্প হয়ে ওঠে। বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ দিয়ে নয় প্রথাগত শিক্ষারই প্রসার ঘটিয়ে জেলাজুড়ে মরশুমি বিপনী হয়ে উঠেছিল এই চৌডল। এক সময় চৌডল নবীন প্রজন্মের কাছে কুটির শিল্পের তকমা পেয়েছিল। পৌষ মাসের সংক্রান্তিতে এর কদর সীমাহীন। পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার এমনকি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এর দাম উঠত। মূলত বাঁশের কঞ্চি, রঙিন কাগজ, পুঁথি, সোলার নানা রকমের উপকরণ, তার, সুতলি প্রভৃতি দিয়ে সুসজ্জিত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে চৌডল। টুসুর এই অস্থায়ী ঘরকে সাজিয়ে তুলতে প্রাকৃতিক ফুলের অনুকরণে তৈরি করা হয় ফুল এবং চৌডল সাজানো হয়। জঙ্গলমহল বিশেষ করে পুরুলিয়া জেলায় এর কদর কমেছে। তাই সাময়িক এই কুটির শিল্পে যুক্ত শিল্পীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এক সময় পরিবারের সবাই এই কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে এই কদিন। হাতে হাত মিলিয়ে অলীক কল্পনা বাস্তবে ফুটে উঠত এই চৌডলে। পেশা এবং নেশা এই দুইয়ের কাঁধে কাঁধ রেখে হাটে বসেই নির্মাণ হত চৌডল।

চৌডল শিল্পীরা জানান, “আজকের দিনে এর চাহিদা কমেছে মকর পরবে চৌডল বিক্রি করে নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফিরতাম। সারা বছর এই দিনটির জন্য মুখিয়ে থাকি আমরা। এবার করোনা সব কেড়ে নিচ্ছে।”
অন্যদিকে, ঝালদার এক প্রবীনার কথায়, “টুসু বিসর্জনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য এই চৌডল। চৌডলের মধ্যে টুসু দেবীকে বসিয়ে গান গাইতে গাইতে বিসর্জনের জন্য জলাশয়ের দিকে রওনা দিই। যার চৌডল যত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে শ্রোতা ও দর্শকদের নজর কাড়বে সেই দল। এবার কেমন যেন ফ্যাকাশে লাগছে এই পরব।”
চৌডলের ব্যপ্তি এতটাই যে মকর সংক্রান্তির দিন থেকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিযোগিতা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আসর বসে। এবার কোভিড বিধির লাগাম আবেগ জড়ানো পরবের রাশ কি টানতে পারবে?

