নয়াগ্রামে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ

অমরজিৎ দে, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ২৫ মার্চ:
ছোট্টো মেয়েকে স্কুল পাঠিয়েছিলেন মা। দুপুর গড়ালেও মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। এরপরই সন্দেহ হয় ওই মহিলার। খুঁজতে বের হন মেয়েকে। এদিক ওদিক ঘোরার পর মেয়ের স্কুলের সামনে যান তিনি। স্কুলঘরের পিছনের একটি জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখেন মেয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলেছেন ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রামের ব্লকের ওই পরিবার। শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে বাচ্চাকে তালা বন্ধ করে রেখে কীভাবে শিক্ষিকরা বাড়ি চলে গেলেন তা নিয়েই সোচ্চার হয়েছেন এলাকার লোকজনও। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্কুলের তিন শিক্ষিকা উজ্জ্বল রানী সাহু, বন্দনা কুইলা ও শকুন্তলা পাইকের বিরুদ্ধে।

ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্ৰাম ব্লকের কলমাপুকুরিয়া পূর্ব শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনা। এই স্কুলে পড়াশোনা করে বছর ছয়ের অঞ্জনা টুডু।প্রতিদিনের মতো এ দিনও তার মা তাকে স্কুলে পাঠায়। কিন্তু ছুটির সময় হয়ে গেলেও অঞ্জনা বাড়ি ফেরেনি। তার মা এর ওর বাড়ি খোঁজ করে দেখেন অন্য বাচ্চারা বাড়ি ফিরে আসলেও তাঁর মেয়ে আসেনি। এরপর শিশুটির মা-বাবা, পাড়ার লোকজন সকলে স্কুলের দিকে যান।অঞ্জনার মায়ের কথায়, স্কুলের পিছনে একটা জানলা রয়েছে। সেখান দিয়ে উঁকি মেরে দেখি মেয়ে ভিতরে পড়ে আছে। এরপরই গ্রামবাসীরা দরজা ভেঙ্গে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় কলমাপুকুরিয়া পূর্ব শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের তিন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার লোকজন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নয়াগ্ৰাম থানার পুলিশ। খবর যায় ব্লক অফিসেও। নয়াগ্রাম ব্লক থেকেও আধিকারিকরা আসেন। অঞ্জনার পরিবারের দাবি, মেয়ের কোনও বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে শিশুটির পরিবার। যদিও তিন শিক্ষিকাই নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

এক শিক্ষিকা জানান, “বাচ্চাটা মিড ডে মিলও খেয়েছে। আমি এরপর ব্যাঙ্কের কাজে বেড়িয়ে যাই। দুই শিক্ষিকা তালা বন্ধ করছিলেন। আমাদের ১২ -১৩টা তালা দিতে হয় স্কুলে। কোনওভাবে বাচ্চাটা বোধহয় পরে আবার ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে। তাতেই এই পরিস্থিতি হয়। তিন শিক্ষিকা সকলের সামনে কেঁদে ফেলেন। তাঁদের কথায়, “এই বাচ্চারা আমাদেরই বাচ্চা। ওদের কোনও কষ্ট হলে আমরাও তা মানতে পারি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *