পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৬ মে: শহর ছেড়ে এবার গ্রামে গিয়ে দাদাগিরি করবার অভিযোগ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, উঠেছে টাকা তোলবার অভিযোগও। সোমবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাটের বোয়ালদাঁড় গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম কৃষনপুর এলাকায়। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কৃষকদের।
তাদের অভিযোগ, কৃষকদের উপর পুলিশি জুলুম বাড়াতে মাঠে গিয়ে ট্রাক্টর এবং হারভেস্টার আটক করছে বালুরঘাটের ট্রাফিক। শুধু তাই নয়, কাগজপত্র যাচাইয়ের অছিলায় চালকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে তোলা আদায় করছে বলেও অভিযোগ। মরশুমের এই সময়ে এলাকার বেশিরভাগ জমির ধান মেশিনেই কাটা চলছে। আর সেখানেই পুলিশ তাদের ধড়-পাকড়ের অছিলায় শুরু করেছে টাকা তোলবার কাজ বলেও জানিয়েছে কৃষকরা। যার ভয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন হার্ভেস্টার এবং ট্রাক্টর মালিকরা জমিতেই যেতে চাইছে না। এদিকে যে কোনো সময় বৃষ্টি নামলে কৃষকরা জমির ধান ঘরে তুলতে পারবে না এই আতঙ্কে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে এদিন রাস্তায় নামেন এলাকার কৃষকরা। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের তরফে।

এদিকে এই অবরোধের জেরে চকভৃগু দাড়ালহাট রুটে বেশকিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। জানা যায়, এদিন সকালে বালুরঘাট ট্রাফিক পুলিশ বালুরঘাট ব্লকের পোড়া মাদল, পশ্চিম কৃষ্ণপুর এলাকায় জমিতে হাজির হয়। সেখানে হারভেস্টার এবং ট্রাক্টর মালিক ও চালকদের কাছ থেকে চলছিল টাকা আদায়। যা নিয়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে গ্রামবাসীরা পুলিশকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরে বালুরঘাট থানার পুলিশ এলাকায় গিয়ে অবরোধ উঠিয়ে স্বাভাবিক করে পরিস্থিতি।
বিক্ষোভকারী কৃষক অনিল কিস্কু, বাবলু সরেন ও লক্ষ্মী হাঁসদারা বলেন, জমি চাষের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে তারা ধান লাগিয়েছে। ইতিমধ্যেই ধান তোলার কাজ শুরু হয়েছে। যে কোনো সময় বর্ষা শুরু হলে এই ধান ঘরে তুলতে পারবে না। ফলে মাঠে মারা পড়বে তারা। তারই মাঝে শুরু হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের জুলুম বাজি ও তোলাবাজি। যা বন্ধের দাবিতেই এদিন পথ অবরোধে সামিল হয়েছেন তারা।
বালুরঘাট ট্রাফিক ওসি বাবুল হাসান জানিয়েছেন, কাগজপত্র বিহীন একটি মোটর সাইকেল তারা ধরতে গেলে তা গ্রামের ভিতরে ঢুকে যায়। তখনই কিছু মহিলা ও পুরুষ একত্রিত হয়ে ঝামেলা করে। রাস্তা অবরোধের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

