আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২০ সেপ্টেম্বর:
বনগাঁ হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক বেকার ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কারও কাছ থেকে ৪০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ঘটনার পর প্রতারিতরা বনগাঁ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানা এলাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে বনগাঁর ছয়ঘরিয়া, চরকতলা-সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন মানুষের কাছে ফোন করেন পিন্টু ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ফোনে তিনি জানান বনগাঁ হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের বেশ কয়েকটি পদে নিয়োগ হবে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে চাকরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে বেশ কয়েকজন তার হাতে টাকা তুলে দেন। কারও কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা- সহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার পর আচমকাই অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে প্রতারিত ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করলে তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে। তাদের দাবি, চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি। এরপরেই তারা বনগাঁ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রথমবার থানায় গেলে তদন্তের জন্য সময় চাওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের ‘বোঝাপড়া’ বা ‘সেটিং’ হয়েছে বলে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। রবিবার ফের কয়েকজন প্রতারিত ব্যক্তি বনগাঁ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের অভিযোগ নিতে পুলিশ অস্বীকার করেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাদের আরও দাবি, অভিযুক্ত পিন্টু ঘোষ নিজেকে বিভিন্ন সময়ে বিজেপির নেতা বা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়েই সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পিন্টু ঘোষ কোনওদিনই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁকে দলের কোনও কর্মী বা নেতা হিসেবে তারা চেনেন না বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। অভিযুক্তের বাড়ি বনগাঁর পেট্রাপোল থানা এলাকায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে অভিযুক্তকে ঘিরে অতীতের আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ২০২১ সালে পিন্টু ঘোষের মায়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে তাঁর মায়ের উপর অত্যাচার করা হত বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এমনকী নেশার টাকার জন্য মাকে মারধর করা হত বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তার মা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এই পুরনো অভিযোগগুলির বিষয়ে পৃথকভাবে পুলিশি নথি বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। চাকরির আশায় টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করা ব্যক্তিদের অভিযোগ, তাদের কাছে টাকা দেওয়ার প্রমাণ এবং যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।
অন্যদিকে, বনগাঁ থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, একাধিক ব্যক্তি থানায় গেলেও তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের কোনও যোগসাজশ বা ‘সেটিং’ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা সামনে আনা হোক। পাশাপাশি বনগাঁ হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের নামে আদৌ কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

