Bagbazar, Gaudiya Math, Heritage, হেরিটেজ ট্যুরিস্ট সার্কিটে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর: কলকাতার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনের মানচিত্রে এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে চলেছে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ। রাজ্যের হেরিটেজ ট্যুরিস্ট সার্কিটে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি হেরিটেজ কমিশনের কাছেও এই মঠ- মন্দির গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে বলে জানান তিনি। রাধাষ্টমী উপলক্ষ্যে শনিবার গৌড়ীয় মঠে গিয়ে সন্ধ্যারতিতে অংশ নেওয়ার পর প্রশাসনিক আধিকারিক ও মঠ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাধাষ্টমীর মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ভক্ত হিসেবে গৌড়ীয় মঠে এসেছেন। রাধারানীকে প্রণাম, আরতিতে অংশগ্রহণ এবং ভগবানের কাছে প্রসাদ নিবেদন করেছেন। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মঠের উন্নয়ন ও পর্যটনের বিষয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “হেরিটেজ কমিশনে এই মঠ- মন্দির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। আমাদের হেরিটেজ ট্যুরিস্ট সার্কিটে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ স্থান পাবে।” মঠকে কেন্দ্র করে একটি নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পার্কিং ব্যবস্থা, মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস, বৃদ্ধাবাস- সহ একাধিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মঠের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলি ধীরে ধীরে সকলকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে গৌড়ীয় মঠের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। মঠের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। গৌড়ীয় মঠের আচার্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ বলেন, বাগবাজারের এই মঠ শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস। দেশ- বিদেশ থেকে বহু মানুষ আজও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মিউজিয়াম দেখতে আসেন এবং মিউজিয়ামের প্রশংসা করেন।

তিনি জানান, জগদগুরু ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ মাত্র ১৮ বছরের প্রচারে ভারতবর্ষে বহু শাখা মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতবর্ষের বাইরে লন্ডন, জার্মানি ও রেঙ্গুনেও তাঁর উদ্যোগে গৌড়ীয় মঠের কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়েছিল। ফলে বাগবাজারের মূল মঠটির ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে।

রাধাষ্টমীর দিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং মঠকে হেরিটেজ ট্যুরিস্ট সার্কিটে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণাকে এই ঐতিহ্যকে আরও বৃহত্তর পর্যটন পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে গৌড়ীয় মঠ কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *