ষাটোর্ধ বৃদ্ধার সাথে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে পুরসভার কর্মীকে মারধরের অভিযোগ তৃণমূল শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে, বালুরঘাটে কর্মবিরতি পুরকর্মীদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৯ এপ্রিল: ষাটোর্ধ মহিলার সাথে দুর্ব্যবহার, প্রতিবাদে পুরসভার ভেতরে ঢুকে এক কর্তব্যরত পুরকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ তৃণমূল শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার কান্ড বালুরঘাট পুরসভায়। প্রতিবাদে দিনভর কর্মবিরতির ডাক দেয় পুরকর্মীরা। তৃণমূল পরিচালিত নবগঠিত পুরসভার প্রথম বোর্ড মিটিংয়ের দিনে কর্মীদের এমন কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা তৈরি হয় পুরসভায়। আর যার জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, এদিন দুপুরে নব নির্বাচিত পুর কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রথম বোর্ড মিটিং চলছিল বালুরঘাট পুরসভায়। যে সময় আচমকা এক বৃদ্ধার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবার অভিযোগে পুরসভার ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত পুরকর্মী রুদ্র প্রসাদ সাহাকে মারধর করবার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাকেশ শীলের বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ, কর্তব্যরত অবস্থায় আচমকা তার ঘরে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি রাকেশ শীল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি। এদিন দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হতেই সামান্য সময়ের জন্য ভেস্তে যায় বোর্ড মিটিং। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেবার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন চেয়ারম্যান। শুরু হয় কর্মীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা। যদিও বোর্ড মিটিংকে গুরুত্ব দিয়ে চেয়ারম্যান ও অনান্য কাউন্সিলররা সভাকক্ষে প্রবেশ করতেই কর্মবিরতির ডাক দিয়ে আন্দোলনে নামেন পুরকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হুড়মুড়িয়ে সভাকক্ষের ভিতরে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কর্মীরা। যে ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বালুরঘাট পুরসভায়। নিরাপত্তার দাবিতে একজোটে সরব হতে দেখা যায় পুরকর্মীদের। তাদের অভিযোগ, এভাবে অফিসের ভিতরে ঢুকে কোনো রাজনৈতিক নেতার দাদাগিরি কখনই বরদাস্ত করবেন না তারা। যার প্রতিবাদেই এদিন কর্মবিরতির মাধ্যমে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

আক্রান্ত পুরকর্মী রুদ্র প্রসাদ সাহা বলেন, এক বৃদ্ধা তার কাছে আসলেও, কাজের কথা কিছুই বলতে পারছিলেন না। তাই তাকে বাড়ির একজন লোককে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর এরপরেই এদিন দুপুরে আচমকা তার ঘরে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেছেন তৃণমূল নেতা রাকেশ শীল।

বালুরঘাট শহরের নেপালী পাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা ঐ বৃদ্ধা শান্তি চৌহান বলেন, স্বামী মারা যাওয়ায় একটি ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নেবার জন্য পুরসভায় এসেছিলেন। ঘর চিনতে না পারায় ওই ঘরে ঢুকে একজনকে জিজ্ঞাসা করতেই তার সাথে দুর্ব্যবহার করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা এক পুরকর্মী জীবন দাস বলেন, রুদ্রর ঘরে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। যা দেখে শুধু অবাক হওয়ায় নয়, আতঙ্কিত বোধও করছেন। যদিও তাদের কারো নাম জানেন না তিনি।

পুরো কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি সুব্রত পালিত জানিয়েছেন, অফিসের ভেতরে ঢুকে তাদের কর্মীদের মারধর করবার ঘটনায় যথেষ্টই আতঙ্কিত বোধ করছেন তারা। যার প্রতিবাদেই কর্মবিরতি করছেন তারা।

আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি রাকেশ শীল অবশ্য জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি জানতে পেরেই তার খোঁজ নিতে পুরসভায় তাদের সংগঠনের অফিসে ছুটে এসেছেন।

বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি শুনেছেন, সমর্থনযোগ্য ঘটনা নয়। তবে কে তাকে মারধর করেছে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কর্মবিরতির ঘটনা মিথ্যে। আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *