স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২২ মে: নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক গোকুল চাঁদ শেখ জটিল অস্ত্রপচার করে এক যুবককে নতুন জীবন দিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের জন্য যখন তিনি বাহবা পাচ্ছেন, ঠিক তখনই সরকারি হাসপাতালে আর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে মারধর ও হুমকির দেওয়ার অভিযোগে নিন্দার ঝড় উঠেছে। রানাঘাট আনুলিয়া হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, শান্তিপুর বড়বাজার ঘাট এলাকার বাসিন্দা টোটো চালক দীপঙ্কর বিশ্বাস অসহ্য পেটের ব্যথা নিয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে রানাঘাট আনুলিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন গত মঙ্গলবার। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পরের দিন তিনি ফের ওই হাসপাতালে আসেন। দীপঙ্করবাবুর অভিযোগ, “চিকিৎসক বাইরে থেকে ইউএসজি করানোর কথা বলেন। প্রতিবাদ করলে জোটে বেদম মার। তিনি আরো জানান যে ওই ডাক্তার তাকে হুমকি দেয় এই ঘটনার কথা বাইরে জানালে তাকে শান্তিপুরের কুখ্যাত সমাজবিরোধীদের দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এমনকি বিধায়ককে দিয়ে সমস্যায় ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।” এরপর তাকে জোর করে ওই ডাক্তারের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
অসুস্থ থাকার পরও হাসপাতালের ডাক্তারের এহেন অমানবিক আচরণে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর সমস্ত চিন্তা শক্তি হারিয়ে যায়। মারের চোটে চোখে মাথায় শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা। চোখ ফুলে লাল হয়ে যায়। সেই সময় তিনি ডাক্তারের কাছে জল চেয়েছিলেন। অভিযোগ, জল না দিয়ে কয়েকজন মিলে তাঁকে চ্যাং দোলা করে নিয়ে যায় ইউএসজির কেবিনে। সেখানে ইউএসজি করবার পর রীতিমতো হুমকি দিয়ে তাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যাসত্য জানতে চিকিৎসক নিপুল মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। এ ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।”
হাসপাতালে সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন” ঘটনার দিন আমি ছিলাম না। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত হবে। হাসপাতালের কর্মীরা আমাকে ব্যাপারটা জানিয়েছেন। তবে শুনেছি রোগীর বাড়ির লোকেরা ও চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে”।

