CM, BJP, “তৃণমূল আমলে ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট যারা দিয়েছে ও নিয়েছে, সকলকে জেলে যেতে হবে,” হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ জুন: তৃণমূল আমলে প্রচুর ভুয়ো এসসি, এসটি সংশা পত্র দেওয়া হয়েছে, একাজে যুক্তদের জেলে যেতে হবে।আজ মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর এই প্রথম বাঁকুড়া সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার এসসি, এসটি’দের সংরক্ষণ নীতি না মেনে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ করেছিল। যেখানেই এসসি, এসটিদের সংরক্ষণ সেখানেই চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারি। এছাড়া ভুয়ো এবং জাল জাতিগত শংসাপত্রের ছড়াছড়ি। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সমস্ত অফিসাররা ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়েছেন এবং যারা নিয়েছেন প্রমাণ হলেই সবাইকে জেলে যেতে হবে।

এদিন মুকুটমণিপুরে একালব্য মডেল স্কুল সংলগ্ন ময়দানে হুল দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাজ্য আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ। এই অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী এভাবেই ভুয়োদের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেন। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ মুকুটমণিপুরের স্থায়ী হ্যালি প্যাডে চপার থেকে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী মা- বোনেরা মুখ্যমন্ত্রীকে আদিবাসী প্রথায় সম্মান জানান। নবনির্মিত সিধু কানুর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করে শ্রদ্ধা জানান। মুখ্যমন্ত্রীকে আদিবাসী সমাজের জাতীয় অস্ত্রের প্রতীক তীর ধনুক দিয়ে সম্মান জানান মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। শুরুতেই আদিবাসী নৃত্যশিল্পী বিজলী মুর্মুর অসাধারণ নৃত্য গীত পরিবেশিত হয়। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু হুল দিবসের তাৎপর্য এবং অতীতের বীরগাথা তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের পর আমরা বিকশিত ভারতে বসবাস করছি। হুল বিদ্রোহের নায়ক এবং শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আমরা আদিবাসীদের ঢালাও উন্নয়ন এবং তাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে জল জমি জঙ্গলের অধিকার সুরক্ষিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী অলচিকি লিপির স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আদিবাসীদের আন্দোলনের ফলে অটলজির আমলেই পৃথক ঝাড়খন্ড রাজ্য গঠিত হয়েছিল। আমরাই দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে আদিবাসী সমাজকে সম্মানিত করেছি। আগের সরকার আমাদের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবাই এগিয়ে আসুন বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে। সেই সাথে বলেন, ছত্তিশগড়, ওড়িশা সহ তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে ক্ষমতায় আছেন। এই রাজ্যে তিনজন আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মন্ত্রী হয়েছেন। রাজ্যে ১৬টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে সব আসন আপনারা বিজেপিকে দিয়েছেন, এছাড়াও বাড়তি একটি আসন আদিবাসী সম্প্রদায় ভুক্ত বিজেপির বিধায়ক জিতেছেন। আপনাদের এই আশীর্বাদের ঋণ এবার শোধ করার দায় আমাদের।

১ জুলাই, থেকে রাজ্যে এক কোটি কুড়ি লক্ষ মা-বোন অন্নপূর্ণার ভান্ডার পাবেন। যার মধ্যে ৫ লক্ষ মা- বোন আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। প্রাচীন আদিবাসী শবর, মুন্ডা সহ অন্যান্যদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সহ একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ধরতিবাবা উৎকর্ষ অভিযানে আমরা উন্নয়নকে চুড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দিব। ক্রীড়া, ভাতা, সূর্য ঘর, জল জীবন মিশন, জয় জোহার সংরক্ষণ নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। জয় জোহার প্রকল্পে আপাতত পাঁচশো টাকা বাড়ানো হয়েছে, আগামী দিনে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করব। লোকপ্রসার ভাতা ও বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদিবাসীদের উন্নয়নে ৩৫০ কোটি টাকার আলাদা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ পাবেন। আদিবাসী হোস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের জন্য আগামী আগস্ট মাস থেকে পড়ুয়া প্রতি ১৮০০ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে। আগের সরকার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করেনি। এবার বাজেটে আমরা ১২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রেখেছি। এর ফলে পশ্চিমাঞ্চলের ৭৫টি ব্লকের উন্নয়ন যথেষ্ট উন্নত হবে বলে মনে করছি। জামশেদপুর শিল্পাঞ্চল থেকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। পর্যটনসহ তিনটি দপ্তরকে নিয়ে ঝাড়্গ্রাম এলাকায় একটি ভালো হাসপাতাল করা হবে। ঝাড়গাম আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে। আগামী দিনে মুকুটমণিপুর হবে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র।

এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা সহ পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্ৰামের একাধিক বিধায়ক এবং সাংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *