আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৯ জানুয়ারি : প্রশাসনের গুঁতোয় শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হল তারাপীঠের সমস্ত লজ, হোটেল। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত তারাপীঠ মন্দির বন্ধের একটি ধাপ বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার করোনা অতিমারির কারণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ। ওই নির্দেশ জারি করার পরেই ৪ জানুয়ারি রামপুরহাট মহকুমা শাসক সাদ্দাম নাভাস, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সায়ন আহমেদ, তারাপীঠ হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুনীল গিরি, মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়দের নিয়ে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সভাকক্ষে জরুরী বৈঠক করেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সমস্ত হোটেল বন্ধ থাকবে। কিন্তু হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুনীল গিরি জানিয়েছিলেন, লিখিত নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনও হোটেল বন্ধ করা হবে না। এনিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ৯ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত লজ বন্ধের কথা ঘোষণা করে হোটেল ব্যবসায়ী সমিতি। তিনি বলেন, “তারাপীঠে বহু হোটেল রয়েছে যারা ব্যাংকের ঋণ ঠিকঠাক মেটাতে পারে না। তাদের কথা ভেবেই হোটেল বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনা যে গতিতে বাড়ছে তাতে আমরা হোটেল বন্ধ করতে বাধ্য হলাম।”
হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এদিন সকাল থেকেই হোটেল খালি করা হচ্ছে। শনিবার কলকাতা থেকে পরিবার নিয়ে পুজো দিতে এসেছিলেন অবিরাম ঘোষ। তিনি বলেন, “দুদিনের হোটেল বুক করেছিলাম। সেই মতো ট্রেনে ফেরার টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু হোটেল থেকে একদিন আগেই বের করে দিল। এখন কি করব বুঝতে পারছি না।”

