জে মাহাতো, মেদিনীপুর, ৮ এপ্রিল:
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর এবং গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের দুটিতেই ষাট থেকে সত্তরটি বুথে এক পক্ষের এজেন্ট দিয়ে ভোট হওয়ায় ফলাফল বা খেলা ঘোরানো নিয়ে চিন্তায় রয়েছে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষইl অন্যান্য বারের মতো এবারও বিরোধীদলের এজেন্ট ছিল না বহু বুথেl পাশাপাশি শাসক দলের পক্ষ থেকেও বেশকিছু বুথে এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হয়নিl
কিন্তু এজেন্ট দিতে না পারলেও তা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই কোনো পক্ষেরইl কোনওরকম অনিয়মের অভিযোগ কোনো পক্ষই সেভাবে তোলেনিl এবার গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় সত্তরটি বুথে শাসকদলের এজেন্ট থাকলেও বিরোধী দলের এজেন্ট ছিলেন নাl অথচ এই বুথগুলিতে মোট ভোটার ছিলেন পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছিl এই বুথগুলোতে শাসকদলের এজেন্ট থাকায় ফলাফল অনেকটাই বিরোধীদের বিপক্ষে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছেl অনেকেই বলছেন, এই বুথগুলির পঞ্চাশহাজার ভোট, ফলাফল বা খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্টl
একইভাবে কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সত্তরটিরও বেশী বুথে সব দলের এজেন্ট দেখা যায়নিl বিরোধীদের এজেন্ট এই সকল বুথে যেমন দেখা যায়নি, তেমনি বিরোধীদের দাপট রয়েছে এমন এলাকার অন্তত দশটি বুথে শাসক দলের এজেন্ট ছিলেন নাl কেশপুরের যে ষাট থেকে সত্তরটি বুথে এক-এজেন্ট ভোট হয়েছে, সেই সমস্ত বুথগুলোতে বাহান্ন হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেনl তবে শাসক-বিরোধী সব দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বুথের ভেতরে কোনো দলের একজন এজেন্ট থাকলেও অন্যান্য বারের মত ভীতি প্রদর্শন বা একতরফা ভোট হয়নিl ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজর ছিল অনেক বেশিল
কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি উত্তম ত্রিপাঠী বলেছেন, কয়েকটি বুথে আমাদের এজেন্ট ছিল না ঠিকই তবে বিরোধীদের লোকজন না থাকায় তাঁরা অন্তত সত্তরটি বুথে এজেন্ট দিতে পারেনিl
বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সৌমেন তেওয়ারি বলেন, বেশ কিছু বুথে তৃণমূলের লোকজন আমাদের এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি ঠিকই তবে তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নিl মানুষ কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়ে বিজেপিকে চুপচাপ ভোট দিয়ে এসেছেনl ঐ সকল বুথগুলিতে আমরা এগিয়ে থাকব এবং বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হবেনl
তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী কিংবা রাজ্য পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করেনিl তা সত্ত্বেও জেলার পনেরোটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হবেনl বিজেপি কোনও আসনে জিততে পারবেনাl

