রাজেন রায়, কলকাতা, ৯ নভেম্বর: কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার ভোট আগে করিয়ে নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। তাতে প্রাথমিকভাবে সায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভবানীপুর উপনির্বাচন থেকে পৌর নির্বাচন সবেতেই কেন রাজ্য সরকারের কথা শুনবে নির্বাচন কমিশন? আলাদাভাবে কলকাতা এবং হাওড়ার নির্বাচন না করে সব পুরসভায় একসঙ্গে ভোট হোক, এমনটাই চাইছে গেরুয়া শিবির। এবার শুরু হয়ে গেল মামলার প্রস্তুতি।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে জনস্বার্থ মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরভোট নিয়ে রাজ্যের পাঠানো প্রস্তাব মেনে নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সব ঠিক থাকলে আজই পুর ও নগরোন্নায়ন দফতরকে কমিশনের তরফে পাঠানো হবে চিঠি।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর শুধুমাত্র কলকাতা ও হাওড়ায় ভোট করাতে চেয়েছে রাজ্য। আর সেই প্রস্তাবই মেনে নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে, বিজেপি চায়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সমস্ত পুরসভার নির্বাচন একসঙ্গে হোক। ২০১১ সালে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পান্ডে যে ভাবে নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন করেছিলেন, ঠিক সেই ভাবেই নির্বাচন যাতে হয়, সেই আর্জিই জানাবে বিজেপি।
আসন্ন পুরভোটে অশান্তির আশঙ্কাও রয়েছে বিজেপির। ভোট নিরপেক্ষতার সঙ্গে নাও হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। তাই যথেষ্ট কেন্দ্রীয় বাহিনীও যাতে উপস্থিত থাকে সেই বিষয়টাও দেখার কথা আদালতে জানাবে বিজেপি। পাশাপাশি বিজেপি নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জানুয়ারি মাসে নতুন ভোটারের তালিকা প্রকাশ হয়। ঘোষণা হয়, ফলে পরে ভোট হলে অনেক নতুন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

