আমাদের ভারত, ১জুন: ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র উপস্থিতিতে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে শপথ গ্রহণ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু। এরপর সোমবার শুভেন্দু মন্ত্রিসভার প্রথম সম্প্রসারণে অন্তর্ভুক্ত হলেন আরো ৩৫ জন। যার মধ্যে ১৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী, তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। এর ফলে বিজেপি মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১।
নয়া মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে শুভেন্দু মন্ত্রিসভায়, যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এককথায় অত্যন্ত ব্যালেন্সড মন্ত্রিসভা তৈরি করা হয়েছে। এই মন্ত্রিসভায় যেমন গুরুত্ব পেয়েছে আদি বিজেপি, দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ, তরুণ নেতা, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও গবেষকরা। তেমনি আবার রয়েছে সমাজের নিচুতলা থেকে উঠে আসা পরিচারিকা। গুরুত্ব পেয়েছে পাহাড় থেকে উপকূল, জঙ্গল থেকে খনি, সব এলাকা। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের দিকে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ তুর্কিদের। আবার আর এস এস ঘরানাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিজেপিকে অবাঙালিদের একটা বড় অংশ ভোট দিয়েছে, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে মন্ত্রিসভা গঠনে। অন্য দল থেকে এসে যারা নিজেকে যারা প্রমাণ করেছেন, তাদেরকেও গুরত্ব দিয়ে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজেপির কাছে প্রথম থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আদিবাসী সমাজ। তার অন্যথা হয়নি এক্ষেত্রেও।
পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন তাপস রায়। যার ৪ দশকেরও বেশি রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ নেতা মনোজ ওঁরাওকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। বিপুল অবাঙালি ভোটে জিতেছে এবারে বিজেপি। তাই অবাঙালি মুখ হিসেবে অর্জুন সিংকে পূর্ণ মন্ত্রী করেছে বিজেপি। আদি বিজেপি হিসেবে পরিচিত গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন হয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী। আবার উচ্চ মধ্যবিত্ত তথা চিকিৎসকদের প্রতিনিধি শারস্বত মুখোপাধ্যায় হয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী। কাঁথি থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন অরূপ কুমার দাস। সুশীল সমাজের মুখ তথা বিশিষ্ট সাংবাদিক আবার ব্যবসায়ী মহলে যার ব্যপক জনপ্রিয়তা সেই স্বপন দাশগুপ্ত পেয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব। আরএসএস- নেতা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক কল্যাণ চক্রবর্তীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। আবাঙালি হিসেবে উঠে এসেছে আরও এক মুখ, কুলটির অজয় পোদ্দার। দীর্ঘদিন ধরে সিপিএম ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা বিজেপি নেতাদের অন্যতম দুধকুমার মন্ডল হয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী। সিপিআইএম থেকে বিজেপিতে এসে উত্তরবঙ্গে নিজের বড়সড় সাফল্যের ছাপ ফেলা শঙ্কর ঘোষ কেও করা হয়েছে পূর্ণ মন্ত্রী। রাজবংশী সম্প্রদায়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তুফানগঞ্জের মালতী রাভা। কুরমি সমাজের নেতা রাজেশ মাহাতো হয়েছেন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। অন্যদিকে তরুণ চিকিৎসক নেতা ইন্দ্রনীল খাঁকেও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন কলিতা মাঝি যিনি পেশায় পরিচারিকা।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অশোক দিন্দা, জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামানিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য দিবাকর ঘরামি, নদীয়ার চাঁদ বাউরি, গার্গী দাস ঘোষ, অমিও কিস্কু, কলিতা মাঝি, বিরাজ বিশ্বাস, সুমনা সরকার, আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা, দীপঙ্কর জানা।

