রাজেন রায়, কলকাতা, ৩০ অক্টোবর: রোশনি আলি। নামটার সঙ্গে হয়তো অনেকেরই পরিচয় নেই। তাঁর গত ২৮ অক্টোবরের প্রথম যে ফেসবুক পোস্টটি কিছু মানুষের নজর কেড়েছিল, তাতে লেখা ছিল, এই মরশুমে বাজির ওপর যাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তার জন্য আমি জনস্বার্থ মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্ধু এবং আইনজীবী রচিত লাখমানি। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ছবিও পোস্ট করেছেন।
শহরের বাতাস যে খুবই অস্বাস্থ্যকর, সে কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, নির্বিচারে বাজি ফাটানো হলে শীত পড়ার মুখে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। ২৯ অক্টোবর এই মামলার শুনানি, এই তথ্য দিয়ে তিনি সবার শুভেচ্ছাও প্রার্থনা করেছেন ওই ফেসবুক পোস্টে।
এরপরের ঘটনা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলারই রায়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, যে কোনও ধরনের বাজি বিক্রি এবং ফাটানো নিষিদ্ধ। বহু মানুষ আদালতের এই রায়কে দু’হাত তুলে সাধুবাদ জানালেও মাথায় হাত পড়ে বাজি ব্যবসায়ীদের। দি বড়বাজার ফায়ার ক্র্যাকার অ্যাসোসিয়েশন এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করে সুপ্রিম কোর্টে। কিছুদিনের মধ্যেই এর শুনানি হবে, এমনটাই খবর।
এরপরই হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। জানা যায়, তিনি কলকাতারই মেয়ে। ফেসবুকে তাঁর পরিচয় পরিবেশ কর্মী। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর রোশনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা একজন মুসলিম, মা একজন হিন্দু। তাঁর যাবতীয় শিক্ষায় খ্রিস্টান প্রভাব রয়েছে যথেষ্ট। তিনি রূপোর তৈরি বুদ্ধের পেনডেন্ট পরেন গলায়, কিন্তু পাসপোর্ট অনুযায়ী তিনি মুসলিম। তিনি প্রতি সপ্তাহে একটি কালী মন্দিরে যান, কিন্তু ‘আলি’ পদবিকেও ভালবাসেন। কারণ, সেটি বাবার থেকে পাওয়া।’ এর আগেও রোশনি নানা ইস্যুতে সরব হয়েছেন। এবারের ওই সাড়া জাগানো রায়ের পরও লড়াই যে তাঁর থামবে না, সে কথাও তিনি জোরের সঙ্গেই জানিয়ে দিয়েছেন।
আত্মবিশ্বাসী রোশনির সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা, আসুন, সবাই মিলে যদি নিজেদের সামর্থমতো কিছুও করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো পরিবেশ আমরা উপহার হিসেবে পেতে পারি, আমাদের ভবিষ্যতও হয়ে উঠবে নিশ্চিন্তের, নিরাপদের।

