অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১ ফেব্রুয়ারি: “ভারত সরকারের বাজেট এবারে একটু অন্য ধরণের। আর কয়েক বছরের পরেই তো নির্বাচন। তাই এবারের বাজেট জনমুখী।” মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ তথা ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বতন্ত্র সংস্থার আধিকারিক ডঃ প্রবীর দে।
এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, “দেশের অর্থনীতিতে ক্যাপিটাল ইনজেকশন দরকার যাতে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ যা বলেছেন তাতে বাজেট ২০২২-২৩ জনসাধারণের বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করবে।
গত দুই বছরে মহামারীর অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধির পর বাজেট দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিতে পারে। কিছু রাসায়নিকের আমদানি শুল্ক কমানো হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসার জন্য ইস্পাত স্ক্র্যাপের উপর শুল্ক অব্যাহতি আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হবে। স্টেনলেস স্টিল, ফ্ল্যাট পণ্য, উচ্চ ইস্পাত বারের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। সড়ক, মহাসড়ক, ডিজিটাল অর্থনীতি, বন্দর, রেলপথ, মাল্টি মডেল লজিস্টিক পার্ক ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুল্ক কমার জন্যে আমাদের দেশের কনস্ট্রাকশন সেক্টর উপকৃত হবে। কাজের সুযোগ বাড়বে। কোভিড পরবর্তী সময়ের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু নতুন প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। যেমন ‘পিএম ইবিদ্যা’-এর ওয়ান ক্লাস টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ২০০টি টিভি চ্যানেলে সম্প্রসারিত করা হবে।
ভার্চুয়াল ল্যাব এবং স্কিলিং ই-ল্যাব স্থাপন করা হবে সমালোচনামূলক চিন্তা দক্ষতা এবং সিমুলেটেড শেখার পরিবেশের প্রচারের জন্য। ডিজিটাল শিক্ষকদের মাধ্যমে ডেলিভারির জন্য উচ্চ মানের ই-কন্টেন্ট তৈরি করা হবে। ব্যক্তিগত শিক্ষার অভিজ্ঞতাসহ বিশ্বমানের মানের সার্বজনীন শিক্ষার জন্য ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এগুলো খুবই দরকারী। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেমের জন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে। এগুলো খুবই ভালো উদ্যোগ। সমবায়ের দ্বারা প্রদত্ত বিকল্প ন্যূনতম কর ১৮.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে৷ শুল্ক অব্যাহতি এবং ট্যারিফ সরলীকরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের বাজেট অনেক আশা দেখাচ্ছে।“

