আইনুল কেন সহ প্রশাসক, প্রশ্ন তুলে রাস্তা অবরোধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বর্ধমানে বিক্ষোভ তৃণমূলের

আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২১ আগস্ট: তৃণমূল নেতা আইনুল হককে বর্ধমান পুরসভার সহ প্রশাসক পদে বসানো নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত। শনিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় বর্ধমান শহরজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তারা রাস্তার উপর টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়, কোথাও কোথাও আইনুল হকের পুতুল তৈরি করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া বিক্ষোভ দেখানোর সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য গোষ্ঠীর সঙ্গে মারামারিও শুরু হয় যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বর্ধমান শহর। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় বর্ধমান থানার পুলিশ।

বর্ধমান পুরসভার প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে তৃণমূল নেতা প্রণব চ্যাটার্জিকে। সহ প্রশাসক করা হয়েছে প্রথমে সিপিএম ও পরে বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া আইনুল হক ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আল্পনা হালদারকে। সেই কমিটিতে আরও রাখা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাঃ শঙখশুভ্র ঘোষ ও উমা সাঁইকে।

আইনুল হককে কেন সহ প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে তার বিরোধিতা করে শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশের মধ্যে বিক্ষোভ। শনিবার দুপুর থেকে বর্ধমান শহরের নীলপুর, পার্ক রোড, তেলিপুকুর, কার্জন গেট, রথতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। সেখানে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আইনুল হক দূর হটো এই শ্লোগান দিতে থাকে তৃণমূল কর্মীরা। কোথাও আবার আইনুল হকের কুশপুতুল তৈরি করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শহরের তেলিপুকুর এলাকায় তৃণমূলের বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর সঙ্গে বচসা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে মারামারি। সেই সময় সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি টোটো ভাঙ্গচুর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ।

রথতলা এলাকায় তৃণমূল নেতা সজল ঘোষ বলেন, আমরা ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করে আসছি। সেই সময়ে সিপিএম নেতা ছিলেন আইনুল হক। তার অত্যাচারে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। কোনও কোনও তৃণমূল নেতাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আমরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও আইনুক হককে সহ প্রশাসকের পদ থেকে সরাতে হবে এই দাবিকে সামনে রেখে বর্ধমান শহরজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছি। আমরা চাই অবিলম্বে রাজ্য নেতৃত্ব আইনুল হককে সহ প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে দিক। না হলে আমাদের এই আন্দোলন চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *