খড়্গপুর আইআইটিতে ফের ৩১জন করোনায় আক্রান্ত

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ জানুয়ারি: বছর শেষের দিনে ৩ দিনের হল কার্ফু জারি করেছিলেন খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। সেই কার্ফুর মেয়াদ আজ সোমবার সকাল ৬ টায় শেষ হয়েছে। আর তারই মধ্যে ৩১জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানাগেছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশই পড়ুয়া। তাছাড়াও রয়েছেন কয়েকজন কর্মী।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে আইআইটি ক্যাম্পাসে এসেছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ছাত্র-ছাত্রী।এক সাথে এত পড়ুয়ার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ালেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবন চন্দ্র হাঁসদা জানিয়েছেন, আক্রান্তের সিংহভাগই উপসর্গহীন।

গত বছরও আইআইটি ক্যাম্পাসে খুব কম পড়ুয়া থাকা স্বত্ত্বেও করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। আক্রান্তের তালিকায় বেশিরভাগই ছিলেন আইআইটি কর্মী, অধ্যাপক, অধ্যাপিকা কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, কিন্তু এক সাথে এতজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর ছিল না। নিশ্চিতভাবেই পড়ুয়াদের আগমনই সেই সংখ্যা বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে যদি ফের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে তবে তা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তা নিয়েই পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করছেন আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ।

জানাগেছে, নতুন যে সাড়ে ৩ হাজার পড়ুয়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন তাঁদের প্রত্যেককে দুটি প্রতিষেধক টিকা ও আরটিপিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। তারপরও আইআইটির চিকিৎসকরা তাঁদের পরীক্ষা করে হোস্টেলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। হোস্টেলে ফেরার পরও তাঁদের ৩ দিনের জন্য সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে। এরই মধ্যে আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ ৩১ ডিসেম্বর হল-কার্ফু জারি করে। পড়ুয়াদের নিজের ছাত্রাবাসের মধ্যেই আবদ্ধ রেখেছিলেন। তাঁদের করিডোরে, খোলা মাঠে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানও কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। তারও মধ্যেই পাওয়া গেল এই সংক্রমন চিত্র।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি যে নমুনা সংগ্ৰহ করা হয়েছিল তা থেকে ২জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বাকি এক লপ্তে ২৯জন আক্রান্ত হয়েছেন ২রা জানুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী। পরবর্তী  পদক্ষেপের জন্য আলোচনায় বসেছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। আপাতত নিরন্তর পরীক্ষা বা র‍্যান্ডাম টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *