Rana, ISI, Habra, হামিমের পর রানা, তপসিয়ায় আইএসআই যোগের অভিযোগ, হাবড়া থেকে গ্রেফতার সন্দেহভাজন

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ আগস্ট: কলকাতা পুলিশের স্পেশাল বেঙ্গল এসটিএফ- এর জালে ধরা পড়ল এক পাকিস্তানি চর। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার যশোর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে ভারতে বসবাসকারী এই পাক নাগরিকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও রেলের গতিবিধির ওপর নজর রাখা।

পুলিশ ও এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তি এলাকায় নিজেকে ‘রানা রাউত নামে পরিচয় দিত এবং সে তিলজলা ও হাবড়ার বাসিন্দা বলে সূত্রের খবর। এক টানা জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি পরীক্ষার পর সামনে আসে আসল তথ্য। ধৃতের প্রকৃত নাম ওয়াহাব আলম, যার মূল বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে সে বসবাস করছিল। তদন্তকারীদের দাবি, হাবড়ায় কাঠের ব্যবসার মোড়কে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল ওয়াহাব। প্রাথমিক তদন্তে জানাগেছে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁর দিকে তার যাতায়াত ছিলো কোনো বড় নাশকতার ছক কিংবা আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা রানা ২০১২ সালে নেপাল দিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে আসে। এরপরই রানা বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসে। তদন্তে জানাগেছে, এই ব্যক্তি ভারতীয় রেল ও সেনার বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। এমনকি এদেশে থাকতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেই কারণে সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ভারতের নথি বানিয়ে দিতে সাহায্য করেছিল কলকাতার তপসিয়ার এক ব্যক্তি। তাকেও ধরেছে পুলিশ।

সম্প্রতি জইশ- ই- মহম্মদের সদস্য হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তাকে জেরা করে আরও এক সঙ্গীকে পাকড়াও করা হয়েছে। হামিম হাওড়ার পিলখানা এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজর রেখে সেসব তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল হামিমের কাজ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই এবার আইএসআই জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হলো এই রানা রাউতকে। কলকাতারই এক ব্যক্তি তাকে এই নকল আধার ও ভোটার কার্ড করে দেয়। তাকেও গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা।

জানাগিয়েছে, রানা ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করত এলাকায়। নকল পরিচয়পত্রে পাওয়া এই নামও আসল নয় বলেই প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যেই ধৃতের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ- সহ একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে এসটিএফ। ডিভাইসগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই চক্রের মূল মাথা ও স্থানীয় সহযোগীদের সন্ধান মিলবে বলে আশা করছেন গোয়েন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাবড়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *