আমাদের ভারত, ২৭ জুলাই: অর্পিতা মোনালিসার পর এবার নিয়োগ দুর্নীতিতে উঠে এলো আলিপুরদুয়ারের শিক্ষক নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা মৌমিতা অধিকারী নাম। বিরোধীদের অভিযোগ তিনিও অর্পিতার মতো পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। ইতিমধ্যেই পার্থ ও মৌমিতা ছবি দিয়ে জেলার নানা প্রান্তে পোস্টার পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে। এই পোস্টার মেরেছে বাম ছাত্র-যুবরা।
মৌমিতা ছাড়াও এই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে জেলা সভাপতি কৌশিক সরকারেরও। মৌমিতা ও পার্থর পোস্টারে, লেখা রয়েছে, “চোর ধরো জল ভরো”।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের পর থেকেই চর্চায় উঠে এসেছেন মৌমিতা। পার্থর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌমিতা। তিনি বলেছেন, গত দু’দিন ধরে ফেসবুকে তাঁর ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে নানা পোস্ট লক্ষ্য করেছেন। তার মনে হয়েছিল বিষয়টা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা বাড়ছে দেখে তিনি এফ আই আর করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যেসব আজেবাজে কথা লেখা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। সেগুলো সব মিথ্যে কথা। তার দাবি, “আমি শিক্ষক সংগঠন করি। তাই বিভিন্ন বৈঠকের কারণে আমাদের কলকাতা যেতে হয়। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় আসেন। সেখানে আমার ওনার সঙ্গে পরিচয়। এই সমস্ত বৈঠকেই ওনার সঙ্গে অনেকবার রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। ছবিও তুলেছি। চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
এদিকে জেলায় মৌমিতার নামে পোস্টার দেওয়ার পর আলিপুরদুয়ারের এসএফআই নেতা পাভেল চৌধুরীর অভিযোগ, শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় নয়, বাংলার প্রতিটি গ্রামে এইরকম চোররা ছড়িয়ে আছে। সেই রকম আলিপুরদুয়ারের দুজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। এদের তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। তাই অবিলম্বে এদের গ্রেফতার করা হোক। তার আরও দাবি, এদের মাথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধরা হোক। আর তারপর কালীঘাটে কত টাকা পৌঁছেছে তা বিচার করা হোক।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি পার্থ ও অর্পিতাকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। অন্যদিকে আবার শান্তিনিকেতনের মোনালিসা দাস নামে এক মহিলার অধ্যাপিকার নামেও প্রচুর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে খবর, তার সাথেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতার কথা শোনা যাচ্ছে। এখন আবার নিয়োগ দুর্নীতিতে মৌমিতার নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর সেই পারা আরও একধাপ চড়লো।

