৪০ ঘন্টার পর জেলাশাসকের প্রতিনিধির আশ্বাসে পথ অবরোধ উঠল ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে

অমরজিৎ দে, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ২৮ মে:
ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের প্ৰহরাজপুর থেকে ধোবাশোল পর্যন্ত ৫ কিমি পাকা রাস্তার দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ শুরু করেছে।

শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় ৪০ ঘন্টার বেশি সময় ধরে তাদের পথ অবরোধ চলে। সাঁকরাইল ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবরোধ তোলার অনুরোধ করলেও তারা অবরোধ তোলেনি। যার ফলে ওই রাস্তায় সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, জেলা শাসক ঘটনাস্থলে এসে প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই তারা অবরোধ তুলবেন। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় যে, একবছর আগে একই দাবিতে ওই এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সেই সময় সাঁকরাইল ব্লকের বিডিও মিঠুন মজুমদার ঘটনাস্থলে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই রাস্তা পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেননি। তাই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, পাকা রাস্তার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পথ অবরোধ চলবে বলে গ্রামবাসীরা সরাসরি জানিয়ে দেন। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক ঘটনাস্থলে এসে পাকা রাস্তার দাবির প্রতিশ্রুতি এবং কত দিনের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন তা জানালে তবে পথ অবরোধ তারা তুলে নেবেন। না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পথ অবরোধ চলবে বলে গ্রামবাসীরা জানান।

পথ অবরোধের ফলে শুক্রবার সকাল থেকে ওই এলাকার জনজীবন একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সমস্যায় পড়েছেন ওই রাস্তার উপর নির্ভরশীল নিত্যযাত্রীরা। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সাঁকরাইল ব্লকের বিডিও রথীন বিশ্বাস বার বার গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা মানতে নারাজ। সেই জন্য জেলা প্রশাসনের উপর তারা আস্থা রাখতে চলেছেন। তবে গ্রামবাসীদের দাবি মেনে শনিবার ঘটনাস্থলে জেলাশাসক জয়সী দাশগুপ্ত যেতে না পারলেও তিনি তার প্রতিনিধিকে পাঠান। জেলাশাসকের প্রতিনিধি ওই এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেন ওই রাস্তাটি পাকা করা হবে। তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জেলাশাসক গ্রহণ করবেন। জেলাশাসকের প্রতিনিধির আশ্বাস পাওয়ার পর শনিবার ৫ টা ৪০ নাগাদ গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ তুলে নেন। পথ অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *