রবীন্দ্র সরোবরে অনুশীলনের জন্য স্পিড বোটের প্রস্তাবে নারাজ পরিবেশবাদীরা

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৮ মে: রবীন্দ্র সরোবরে দুর্ঘটনার পর সেখানে জলক্রীড়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রস্তাবের রূপরেখা (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিন আস্টেক আগেই সরোবরে রোয়িং করতে আসা স্কুলের দুটি বাচ্চা ছেলে প্রবল কালবৈশাখীর মুখে পড়ে তলিয়ে যায় এবং অচিরেই প্রাণ হারায়। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

পরিবেশবাদীদের তরফে প্রযুক্তিবিদ এবং গত ৬৫ বছর ধরে এই জাতীয় সরোবরের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ শনিবার রাতে এই প্রতিবেদককে জানান, “দুটি সময়ের কথা উঠে আসছে বর্তমান কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে। সরোবরে রোয়িং ইতিহাসে এত মর্মান্তিক মৃত্যু কেউই এযাবৎ শুনিনি। গভীর সমবেদনা জানিয়ে কিছু কথা জানাচ্ছি, যা আগামী দিনে সরোবরের নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু পথ দেখাবে আশা করি।

পুলিশ এবং কেএমডিএ’র যৌথ আহ্বানে গতকাল লেকে রোয়িং এবং সাঁতারের জন্য কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে একটি এসওপি’র খসড়া প্রস্তাব তৈরির জন্য বিভিন্ন সংগঠনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আপাতত এটি তৈরিতে কিছু সংযোজন হয়ত প্রয়োজন হতে পারে তাই আপাতত তা অনুমোদন পায়নি। আমরা আশা করি শীঘ্রই তা প্রকাশিত হবে। ততদিন সরোবরে সমস্ত জলক্রীড়া স্থগিত আছে।

এদিকে কাশ্মীরে ডাল লেকে আসন্ন রোয়িং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক কিছু ব্যক্তি আর্জি রাখেন এই অচলাবস্থার মধ্যেই যেন সরোবর তাদের অনুশীলনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এদিকে উদ্ধার ডিঙি ছাড়া রোয়িং করা যাবে না এমন সিদ্ধান্তে সেই অনুশীলন সম্ভব নয়। তাই অনুরোধ আসে এই অনুশীলনের জন্য স্পিড বোটের অনুমতি দেওয়া হোক। যুক্তি হিসেবে দেখানো হল যে কাশ্মীরের ডাল লেকে পেট্রোলচালিত স্পিডবোট চলে এবং হুসেন সাগর লেকেও তাই।

কিন্তু আমরা যারা পরিবেশপ্রেমীরা গভীর দুর্ভাবনার সঙ্গে দুটি তথ্য পেশ করতে চাই। ডাল লেক এবং হুসেন সাগর লেক দুটির জল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু এই রবীন্দ্র সরোবর কোনও উৎসের সঙ্গেই যুক্ত নয়। ডাল লেকের জলকে পুষ্ট করছে যেমন ঝিলম নদী তেমন হুসেন সাগরকে পুষ্ট করছে মুসী নদী। তাই সেখানে স্পিডবোটের বর্জ্য জ্বালানি তেল নদীর তাজা জলে ধুয়ে যায়। এবার এই কংক্রিট ঘেরা চৌবাচ্চার মত রবীন্দ্রসরোবরকে এই বর্জ্য তেলের ভয়ংকর দূষণের হাত থেকে বাঁচাবে কে?

মহামান্য গ্রিন ট্রাইব্যুনাল তো আদেশনামা এমনি এমনি জারি করেননি এখানে! অবশ্যই ইকো সিস্টেমের কথা ভেবেই এই আদেশ হয়েছে! সেখানে কোনও প্রতিযোগিতার কথা ভেবে যদি সেই আদেশে শিথিলতা আনা হয় তাহলে সেটি হবে একান্তই পরিবেশ-বিরুদ্ধ ভাবনা। আমরা সর্বদাই এই ধরনের কোনো পরিবেশ-বিরুদ্ধ ভাবনার বিপক্ষে রয়েছি। দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবরের ভবিষ্যত তাহলে কি?“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *